
সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমিয়ে নতুন ফি নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সমাবর্তন কমিটির সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকাসহ মোট ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকাসহ মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্নাতক পর্যায়ে মোট ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা যুক্ত হয়ে মোট ফি দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকাসহ মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা।
সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নির্ধারণের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ফি কমানোর দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, পড়াশোনা শেষে চাকরির অপেক্ষায় থাকা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি বহন করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে মেসভাড়া, খাবার ও যাতায়াতসহ নানা খরচ বহন করতে হয়। এর মধ্যে সমাবর্তনের বাড়তি ফি তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করছিল।
এ পরিস্থিতিতে জকসু সমাবর্তনের ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানায়। গত ২২ অক্টোবর জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি কমানোর দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন। ফি পুনর্নির্ধারণ করা না হলে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনও ফি কমানোর দাবি জানায়।
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
আরটিভি/জেএমএ


