
ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাবন্দী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইকরাম ওয়াহিদ তোহা কারাগারে বসেই পঞ্চম বর্ষের বি.ফার্ম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে তার পরীক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
কারা কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকরাম ওয়াহিদ তোহা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। কারাবন্দী অবস্থায় তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে পঞ্চম বর্ষের বি.ফার্ম প্রফেশনাল পরীক্ষা-২০২৫-এ অংশগ্রহণের জন্য আদালতের মাধ্যমে আবেদন করা হয়।
আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গত ৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে কারাগারের অভ্যন্তরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে কারাগারেই তার পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২ নভেম্বর থেকে ফার্মেসি বিভাগের পঞ্চম বর্ষের বি.ফার্ম প্রফেশনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী কারাগারের অভ্যন্তরেই তোহার পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ তোহাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এক ছাত্রী গত ১৮ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বাদীও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ওই ছাত্রীর সঙ্গে তোহার পরিচয় হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক চলাকালে তোহা তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে এবছরের ১৩ আগস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর হাটহাজারীর একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তোহাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে, কারাবন্দী অবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় তার শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ


