ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’

বুটেক্স সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ছবি: বুটেক্স সংবাদদাতা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০অক্টোবর) বুটেক্স ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাব।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব।

প্রতিযোগিতায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, দেশের ২৫টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আটটি ভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কানিজ ফারহানা, বুটেক্সের ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম নয়ন, বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এস কে মোহাম্মদ রাফি।

প্রতিযোগিতার বিভাগগুলো ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, ট্রেজার হান্ট, কুইজার্ড, পোস্টার উপস্থাপনা, কেস প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ, প্রবন্ধ রচনা এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনী।

কলেজ বিভাগের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম হন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাকিন শাহরিয়ার বিন কবির, দ্বিতীয় নটর ডেম কলেজের জুনায়েদ লাবীব আল ওয়াসি এবং তৃতীয় হলি ক্রস কলেজের শাকিবা আক্তার।

বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রতিযোগিতা গুলোর মধ্যে ট্রেজার হান্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে টিম ইনকগনিটা, দ্বিতীয় বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম টুইলাইটস' এবং তৃতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে টিম হ্যালোজেন।

কুইজার্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্সের এ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম অ্যাটাক অন কুইজার্ড, দ্বিতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে টিম ডাবল ট্রাবল এবং তৃতীয় হয় বুটেক্সের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে টিম দ্য রেড আর্মি।

পোস্টার উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে টিম থ্রাইভ, দ্বিতীয় সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিম গ্যাস্ট্রিক এবং তৃতীয় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিম নেক্সাস ইনভেন্টরস। কেস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজ থেকে টিম ক্যাটালিস্ট, দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম দ্য অরফিয়াস এবং তৃতীয় আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে ‘টিম আন-থ্রেড-ইশনাল’।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ বিভাগে প্রথম স্থান গ্রহন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ‘টিম দ্য ব্রেইনসেল’, দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে ‘টিম জোনেক্স’ এবং তৃতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘টিম সোডা-পপ দল’। প্রবন্ধ রচনায় প্রথম হন বুটেক্সের আনজুম আবদুল্লাহ তাহহা, দ্বিতীয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)রোয়াইদা বিনতে আলী এবং তৃতীয় হন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) মো. আরিফুল হক নাঈম।

অন্যদিকে, প্রজেক্ট প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে ‘টিম হ্যাব’, দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে 'টিম ইকো পাল্প বিডি' এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে থেকে ‘টিম গ্রিন জেনেসিস’ ও বুটেক্স থেকে ‘টিম কোয়ান্টুম্যানিয়া’।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ২য় বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘কিংকল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি বুটেক্স উপাচার্য ম্যাগাজিনটির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন, টেক্সটাইল শিল্পে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই।

বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেক্সটাইল খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা করি বুটেক্স সাইন্স ক্লাবের কাছে।

বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রশীদ রনি বলেন, টেক্সভার্স ২.০ এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন হওয়ায় এবং আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমাদের অতিথি ও ক্লাব মডারেটর স্যারের দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের পুরো আয়োজক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন, টেক্সভার্স ২.০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব প্রকাশনা ‘কিংকল ২.০’ ম্যাগাজিনও আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই এই ম্যাগাজিন শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি, নতুন ধারণা ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠুক।

বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, টেক্সটাইল সায়েন্সের পাশাপাশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাসটেইনেবিলিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি নয়। প্রচলিত সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে।

উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপদের হাতে পুরস্কার হিসেবে প্রাইজমানি, ক্রেসট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি ছাত্রদলের 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং মোকাবিলায় প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য-সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ সহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রচলন করা প্রয়োজন। সোলার প্যানেল স্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় এবং লোডশেডিংয়ের প্রভাব হ্রাস পাবে। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আরটিভি/এসআর
ইবিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি ছাত্রদলের 
হাবিপ্রবিতে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত
শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ এবং ভবিষ্যতের দক্ষ রসায়নবিদ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর রংপুর আঞ্চলিক পর্ব (প্রিলিমিনারি)।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পর্বে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৬৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপিস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এনামুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল ইসলামকে। অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্বের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. বলরাম রায় এবং সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ড. ফাতিহা ফারহানা।  আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিজয়ীদের মেডেল, সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বলরাম রায় বলেন, এই খুদে রসায়নবিদদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিতে পারলে আমাদের দেশের রসায়নচর্চা সুদূরপ্রসারী হবে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত রসায়নপ্রেমীদের খুঁজে বের করা সম্ভব। আয়োজক সূত্রে আরও জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগ বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির সহযোগিতায় ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের সার্বিক আয়োজন করছে। এবারের প্রিলিমিনারি পর্ব দেশের মোট ১৪টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। সারা দেশ থেকে নির্বাচিত সেরা ২০০ শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত সেরা চার শিক্ষার্থী আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে রসায়নের ব্যবহারিক ও সৃজনশীল জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরিতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর
হাবিপ্রবিতে ১৬তম রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ (জবি) দেশের ১৪টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড-২০২৭-এর প্রাথমিক পর্ব।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অলিম্পিয়াডে সারা দেশ থেকে চার সহস্রাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির যৌথ আয়োজনে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।  সকালে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ কেমিক্যাল সোসাইটির পতাকা ও অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অলিম্পিয়াডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান।  তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্ব ও অর্জনের বিষয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়ক হবে। ঢাকা অঞ্চলে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের এইচএসসি এবং ইংলিশ মিডিয়ামের এ-লেভেল পর্যায়ের মোট ২৮৭ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে ২৪০ জন প্রাথমিক পর্বে অংশ নেয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার পর অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে সনদ ও মেডেল প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে রসায়নের প্রয়োগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. এমরান কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ কে এম লুৎফর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম এবং সমিতির সাবেক সভাপতি ও সরকারের সাবেক মুখ্য সচিব ড. মো. আব্দুল করীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক। বক্তারা বলেন, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রসায়ন শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে মুক্তবুদ্ধি ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের রসায়নের প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান, ছাত্র-কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাদি হাসান জুয়েলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পর্বের জন্য বাছাই করা হবে। আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আদলে এ পর্বের পরীক্ষা নেওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে চারজন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তারা আগামী ১৯ থেকে ২৮ জুলাই ২০২৭ তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে। আরটিভি/এসআর
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড
পাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির উদ্যোগে ‘১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাবনা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবন-২-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পরীক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পরীক্ষার্থী ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংগীত, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন।  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন কলেজের ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন, রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহমেদ।  এ ছাড়া রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক এবং চার শতাধিক পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়ন অলিম্পিয়াড অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ সময়টি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি রসায়নের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, রসায়ন অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধারণাগত স্বচ্ছতা তৈরি, গাণিতিক ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে পরমাণুর গঠন, রাসায়নিক বন্ধন, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা ও জারণ-বিজারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে বোঝার আগ্রহ তৈরি করবে। ফলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী ও বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতেই ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। আঞ্চলিক পর্যায় থেকে মেধাবীদের বাছাই করে আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তাই একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন কুমার পাল তার বক্তব্যে আয়োজনটি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  তিনি বলেন, ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড সফলভাবে আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  তিনি আরও বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও রসায়নচর্চার আগ্রহ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। আরটিভি/এসআর
পাবিপ্রবিতে ১৬তম বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত
মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামান্ডা ভাইরাস, সতর্কতার পরামর্শ বাকৃবি অধ্যাপকের
গবাদিপশুর রোগ হিসেবে পরিচিত শামন্ডা ভাইরাস (Shamonda virus) এবার প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে গুরুতর অসুস্থ ও রোগপ্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে গবাদিপশুর অস্বাভাবিক রোগ ও প্রজননজনিত সমস্যা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ, সতর্কতা এবং  ওয়ান হেলথ (One Health) পদ্ধতিতে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মেডিসিন বিভাগের প্রাণী কল্যাণ ও আচরণ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম।  তার মতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শামন্ডা ভাইরাস শনাক্তের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন না থাকলেও পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়া ভাইরাসটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রথম মানবদেহে শামন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি প্রকাশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি লিওঁর  হাসপাতালে গুরুতর রোগের চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার রোগপ্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।  একাধিক জৈবিক নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। ৭ অক্টোবর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তার সংক্রমণের বিষয়ে অবহিত হয়। পরে রোগীটি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগের প্রাণী কল্যাণ ও আচরণ ল্যাবরেটরির অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব ফ্রান্সে সংক্রমিত কিউলিকয়েডিস (Culicoides) নামের ক্ষুদ্র রক্তচোষা মিজের (একধরনের ক্ষুদ্র পোঁকা বা মাছি বিশেষ) কামড়ে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত নয়। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।  ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গরু থেকে প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে প্রাণীর শরীরে এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপে গবাদিপশুর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়। জুন থেকে প্রাণীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর জুলাইয়ের শেষ দিকে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। ড. আরিফ আরও বলেন, ভাইরাসটি প্রধানত গরুকে আক্রান্ত করে। আক্রান্ত গবাদিপশুর জ্বর, ডায়রিয়া, অবসন্নতা, ক্ষুধামন্দা ও দুধ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এ ছাড়া গর্ভপাত, মৃত বাছুর জন্ম এবং ভ্রূণের জন্মগত বিকৃতির ঘটনাও ঘটতে পারে। গরুর পাশাপাশি ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণীতেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এসব লক্ষণ অন্য রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই শুধু উপসর্গ দেখে শামন্ডা ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন পরীক্ষাগারভিত্তিক রোগ নির্ণয়। মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হলেও এখনই ব্যাপক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, একটি মানব সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে একটি বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ভিত্তিতে একে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। মানুষের শরীরে ভাইরাসটি কী ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে, কতটা সংক্রমণক্ষম এবং কোন জনগোষ্ঠী বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারে এসব বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশে রোগটি প্রতিরোধে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. আরিফ বলেন, বাংলাদেশে গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর-ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিলে প্রচলিত রোগের পাশাপাশি গবেষণার প্রয়োজনে Simbu serogroup-এর ভাইরাসের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র এসব লক্ষণের ভিত্তিতে শামন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। খামারিদের গোয়ালঘর ও আশপাশের ভেজা, কাদাযুক্ত এবং জৈব পদার্থসমৃদ্ধ স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। পশুর ঘরে মিজের প্রবেশ ও সংস্পর্শ কমাতে উপযুক্ত জাল, পরিচ্ছন্ন আবাসন এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।  গাভীর গর্ভপাত, মৃত বা বিকৃত বাছুর জন্ম, জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা হঠাৎ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার ঘটনা তারিখসহ নথিবদ্ধ করে দ্রুত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খামারে কাজের সময় শরীর ঢাকা পোশাক ও উপযুক্ত রিপেলেন্ট (পোঁকা ও মাছি নিরোধক) ব্যবহার করে কামড়ানো মিজ থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে। একই সাথে অস্বাভাবিক রোগ বা প্রজননজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে গুজবে কান না দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও প্রাণিচিকিৎসককে জানাতে হবে। আরটিভি/এসআর
মানবদেহে শনাক্ত গরুর শামান্ডা ভাইরাস, সতর্কতার পরামর্শ বাকৃবি অধ্যাপকের
আরও পড়ুন
বুটেক্স অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান খানের মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক
তিন মাস ধরে বেতনহীন বুটেক্সের আউটসোর্সিং কর্মীরা
শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার