
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পদ্মা ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পদ্মা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কয়েক দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম দফায় হামলার সময় আমরা পদ্মা ভবনের সামনে ছিলাম। তখন বাইরে থেকেই হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরে তারা সরে গেলে আমি আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভেতরে গিয়ে ভাঙচুরের ছবি তুলছিলাম। এ সময় রাস্তা থেকে আসা এক ব্যক্তি আমাকে ভিডিও ধারণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মুঠোফোন দেখতে চান। একপর্যায়ে তারা আমাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আমাদের ভেতরে পাঠিয়ে দিলে হামলাকারীরা আবারও ফিরে এসে ভবনে ভাঙচুর চালায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্মের সেক্রেটারি আহমেদ মুকতাফি রোহান বলেন, মিরপুরের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হচ্ছেন। গত কয়েক মাসে বেশ কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আজকের হামলা শিক্ষার্থীদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তিনি বলেন, আজকের হামলার সময় পদ্মা ভবনে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা সংঘর্ষ ঘটতে পারত। শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কিছু ঘটনায় ভূমিকা রাখলেও প্রক্টরিয়াল বডির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ, যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
এদিকে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ চলে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই দাবিতে মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। ওই দিন মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় হিমালয় গার্মেন্টস ও পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে কালশী আদর্শনগর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীরা।
পোশাকশ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে শ্রম মন্ত্রণালয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
আরটিভি/এমএইচজে


