
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৫ম সমাবর্তন উপলক্ষে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিবন্ধনের যোগ্যতা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সান্ধ্যকালীন (অনিয়মিত) শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
রোববার (৮ নভেম্বর) আইসিটি সেলের সহযোগিতায় আয়োজিত অনলাইন পোর্টাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এছাড়া নিবন্ধন ফি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সহজ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
পোর্টালটি আগামী ১০ নভেম্বর থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা https://convocation.iu.ac.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।
নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধনের জন্য পোর্টাল চালু করা হয়েছে। ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। শুধু অনলাইনেই নিবন্ধন করতে হবে। অফলাইনে হবে না।
উপাচার্য ও সমাবর্তনের সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, আমরা আজকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করবেন এবং অনেকেই প্রযুক্তিতে দক্ষ নন। তাই নির্ধারিত মাপ অনুযায়ী ছবি আপলোডের নির্দেশনা পোর্টালে স্পষ্টভাবে দিতে আইসিটি সেলকে অনুরোধ করেন তিনি, যাতে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়।
রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন উপকমিটির কনভেনারদের সঙ্গে বৈঠকে রানিং ও প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের তুলনায় রেজিস্ট্রেশন ফি এক ধাপ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।
নিবন্ধনের যোগ্যতা:
মাস্টার্সের ক্ষেত্রে ২০১৫-১৬ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এবং অনার্সে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারবেন। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মাস্টার্স (সন্ধ্যাকালীন) ডিগ্রিধারীরাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২৩৭তম থেকে ২৭৫তম সিন্ডিকেট পর্যন্ত ডিগ্রিপ্রাপ্ত এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন।
উপাচার্যের ভাষ্য— বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্যকালীন ডিগ্রি অর্জনকারীদেরও সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাদেরও সমাবর্তনের মাধ্যমে সনদ গ্রহণের অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন কমিটির তিনি।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন কষ্টে অর্জিত সনদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নমনীয় নীতিমালার মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধন ফি নির্ধারণ:
নিবন্ধন-সংক্রান্ত বিবরণী তথ্য মতে, সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে মাস্টার্স (সন্ধ্যাকালীন) ডিগ্রিধারীদের জন্য এই ফি ৫ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া স্নাতক (সম্মান) সনদ ফি ৫০০ টাকা, মাস্টার্স সনদ ফি ৭০০ টাকা, মাস্টার্স (সন্ধ্যাকালীন) সনদ ফি ১ হাজার টাকা, এমফিল সনদ ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পিএইচডি সনদ ফি ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ডিগ্রির জন্য পৃথক সনদ ফি প্রযোজ্য হবে।
তবে এই ফি নিয়েও প্রাক্তনরা সমালোচনা করেন। অনেকে দাবি করছেন ফি অতিরিক্ত।
অনলাইনেই নিবন্ধন করতে হবে:
আবেদন ও পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিগ্রির বিবরণ যাচাই করবেন। যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে পোর্টাল থেকে সমাবর্তন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। সমাবর্তন কার্ডে গ্র্যাজুয়েটের পরিচিতি, ছবি, আবেদন নম্বর, গাউনের মাপ, অতিথির তথ্য, ডিগ্রির বিবরণ ও কিউআর কোড থাকবে। রেজিস্ট্রেশন করা প্রত্যেক অতিথির জন্য পৃথক গেস্ট পাস ও কিউআর কোড দেওয়া হবে।
অতিথি রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েট সর্বোচ্চ তিনজন অতিথি সঙ্গে আনতে পারবেন। অতিথি হিসেবে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী অথবা সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী প্রত্যেক অতিথির জন্য ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশনকারী গ্র্যাজুয়েটদের গাউন ও উপহারসামগ্রী দেওয়া হবে। এ জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় গাউনের মাপ উল্লেখ করতে হবে।
নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান জানান, ডকুমেন্টস একত্রকরণে সহজ করতে এবং ভোগান্তি কমাতে অনলাইন পোর্টাল উদ্বোধন করা হয়। সবাইকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সরাসরি বা অনলাইনে সুযোগ রাখা হয়নি।
আরটিভি/ এসকেডি




