
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ ডে লেবার ও থোক কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক বা থোক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের একাংশ পোষ্য কোটায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। এসব কর্মচারীর অনেকেই ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগের আশায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ইউজিসির বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে অর্থ না থাকায় তাদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় ডে লেবার ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনিয়ে ভুক্তভুগী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু সহ কয়েকজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছেন। নির্ধারিত নিয়মে আবেদনের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়া চাকরি স্থায়ী করা এবং জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য চাকরির সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এই রিট করা হয়েছে।আদালত ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমার যৌথ ব্যাঞ্চে বিবাদীদের প্রতি রুল জারিও করেছেন। ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। রিট এখনও চলমান রয়েছে।
ভুক্তভুগী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, আমাদের সাথে ইবি প্রসাশন গাদ্দারি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রম দিয়েছি। আমাদেরকে মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলেও পারত। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই আমাদেরকে সরাসরি ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা হাইকোর্ট পর্যন্ত রিট করেছি। আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। চূড়ান্ত রায় হাতে পেলে আমাদেরকে আর কারো ক্ষমতা নেই ছাঁটাই করার। তবে রিট চলমান অবস্থায় কিভাবে ছাঁটাই করে জানি না।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ইউজিসির চিঠির ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকার কিংবা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের জন্য অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আপাতত তাদের বেতন-ভাতা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজনীয় পদের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠাতে হবে। কমিশন যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন দেবে। বিশ্ববিদ্যালয় এখন সেই প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমানে যারা কাজ করছেন, তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে উপাচার্য জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত তিন মাসের বকেয়া বেতন কষ্ট করে হলেও পরিশোধ করা হবে।
উল্লেখ্য, দৈনিক মজুরিভিত্তিক তিন শতাধিক ডে-লেবার হাজিরার ভিত্তিতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কাজ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা প্রহরি, মালি, অফিস সহকারী, ক্লিনার, সুইপার, পিয়ন ও অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন স্থাপনার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তবে তাদেরকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান প্রসাশন। সে লক্ষ্যে তাদের নিয়োগের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে গত ২০ জুন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বশেষ সিন্ডিকেটে তাদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরটিভি/জেএমএ


