ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

শুধু কলা চাষেই টিকে আছে বিশ্বের বৃহত্তম এই বন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরের মধ্যেই গড়ে উঠেছে এক অনন্য কৃষি-ব্যবস্থা, যেখানে ঐতিহ্যবাহী কলা চাষের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বিশাল বনভূমি। শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভ্যারজেম গ্রান্দে এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় কৃষকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

এই কৃষি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে পেদ্রা ব্রাঙ্কা স্টেট পার্কের ভেতরে, যা বিশ্বের বৃহত্তম নগর বন হিসেবে পরিচিত। ইউনেস্কো ঘোষিত অ্যাটলান্টিক ফরেস্ট বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের অংশ এই এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় কুইলোম্বোলা সম্প্রদায়সহ ছোট কৃষকরা এখানে কলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশীয় গাছপালা রোপণ করে এক ধরনের সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করছেন, যা অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে গাছ, ফসল ও প্রাকৃতিক পরিবেশ একসঙ্গে টিকে থাকে এবং একে অপরকে সহায়তা করে। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সময়ের সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষি ও বনভূমি একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে। আগে যেখানে আলাদা করে বন ও কলাবাগান দেখা যেত, এখন সেখানে একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কলাগাছের সঙ্গে এমবাউবা, জাবুটিকাবা ও অন্যান্য দেশীয় বৃক্ষ একসঙ্গে বেড়ে ওঠায় বনভূমির গঠন আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তবে এই কৃষকদের পথ সবসময় সহজ ছিল না। ১৯৭৪ সালে পেদ্রা ব্রাঙ্কা পার্ক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণার পর প্রথমদিকে কৃষকদের চাষাবাদে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং তাদের উচ্ছেদের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয় যে, তারা বন ধ্বংস না করে বরং সংরক্ষণেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ সহায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বর্তমানে এই বনভূমির জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে আশপাশের দ্রুত নগরায়ণ ও আবাসন প্রকল্প। নতুন নির্মাণকাজ বনাঞ্চলের পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি পদ্ধতি প্রাকৃতিক বনের প্রায় ৮০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে সক্ষম এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এই প্রেক্ষাপটে রিওর কৃষকদের এই উদ্যোগ শুধু একটি কৃষি পদ্ধতি নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের খেসারত ব্রাজিলের, সুখবর পর্তুগালের
ব্রাজিলে ভোটগ্রহণ শেষ, লুলা-বলসোনারোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ব্রাজিল কেন ঘুরে ঘুরে বিদেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলে?
ব্রাজিলে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, কঠিন লড়াইয়ে লুলা-ফ্লাভিও