
ত্বক দ্রুত তামাটে বা ট্যান করতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা নির্দেশকারী ইউভি সূচককে উল্টোভাবে ব্যবহার করছেন ইসরায়েলের একদল তরুণ। মানুষের শরীরকে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে সতর্ক করতে ব্যবহৃত এই সূচকের মাত্রা ৯, ১০ কিংবা ১১-এর ওপরে উঠলেই কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোদে বের হচ্ছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করার পাশাপাশি স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
শনিবার (৮ আগস্ট) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পশ্চিম গ্যালিলির শাভেই জিয়ন সৈকতে ১৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল উলফ জানান, ইউভি সূচক ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালোভাবে ট্যান হওয়ার জন্য প্রায় ৪০ মিনিট রোদে থাকেন।
ইউভি সূচক তৈরি হয়েছিল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। সূচকে ১১ বা তার বেশি মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রবণতায় এই সতর্কতাকেই দ্রুত ট্যান হওয়ার উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ক্লালিট হেলথ সার্ভিসেসের সিনিয়র শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এফরাত বার-ইলান জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে এই প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। অনেকেই ইউভি রশ্মির ক্ষতির কথা জানেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের রঞ্জক পদার্থে প্রভাব ফেলে ত্বককে তামাটে করতে পারে। অন্যদিকে ইউভিবি ত্বকের ওপরের স্তরে ক্ষতি ও সানবার্ন ঘটাতে পারে এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন এবং স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
স্কিন ক্যানসারের মধ্যে বেসাল সেল ও স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মেলানোমা বেশি বিপজ্জনক। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মেলানোমার হার থাকা ৩০টি দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে মেলানোমায় মৃত্যুহার ইসরায়েলে সবচেয়ে কম। ইসরায়েল ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৯১ শতাংশ স্কিন ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়।
সানস্ক্রিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিও নাকচ করেছেন ডা. বার-ইলান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত সানস্ক্রিন নির্দেশনা মেনে ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিপরীতে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত।
চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। তরুণ বয়সে বারবার অতিরিক্ত রোদে থাকার প্রভাব বহু বছর পর গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ট্যান হওয়ার জন্য ইউভি সূচকের উচ্চমাত্রাকে ‘সুযোগ’ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবেই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/ এসকেডি


