ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় হতাহত ৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (গাকা) এই তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ও বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক দুটি হামলা চালানো হয়।

সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (গাকা) জানিয়েছে, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নারী নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন। অন্যদিকে, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় এক সুদানির নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং পাঁচজন সৌদি নাগরিকসহ আটজন আহত হয়েছেন।

গাকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, জোট বাহিনী রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রিয়াদ বিমানবন্দর অভিমুখে ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে সৌদি জোট। তার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারের কাছে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাওয়া যায়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় রিয়াদ বিমানবন্দর সংলগ্ন তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে নতুন করে সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক সৌদি সামরিক জোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাত চলছে। এ সংঘাতের জের ধরে বুধবার ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলমান এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প বুহরিংয়ে ইরানের হামলার তীব্রতায় একপর্যায়ে ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা। এমনি এক ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। ভিডিওতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুহূর্ত এবং বিস্ফোরণের পর ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ঘাঁটিতে থাকা প্রায় ৭ হাজার মার্কিন সেনার বেশিরভাগকেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে শতাধিক সেনা ক্যাম্প বুহরিংয়ে থেকে যান। যুদ্ধ শুরুর পর ঘাঁটিটি বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তিন মার্কিন সেনা সিবিএসকে জানান, হামলায় ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তারা এত কাছ দিয়ে উড়েছিল যে পাইলটদের হেলমেট দেখতে পাচ্ছিলাম। হামলা চালিয়েই তারা চলে যায়। হামলার সময় ঘাঁটিতে অবস্থানরত সেনাদের দশমিক ৫০ ক্যালিবারের গোলাবারুদের তীব্র সংকট দেখা দেয়। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা নিয়েও উদ্বেগ ছিল। এক সেনাসদস্য বলেন, তারা আমাদের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনেছিল। ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। হামলায় ক্যাম্প বুহরিংয়ে কোনো মার্কিন সেনা নিহত না হলেও কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন মরুভূমিতে বজ্রপাতে আহত হন। একজনের শরীরে দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অন্যজনের কানের পর্দা ফেটে যায়। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩৭০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। আরটিভি/টিআর
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে মরুভূমিতে সরে যেতে বাধ্য হন মার্কিন সেনারা
যেভাবে সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে কর্মরত কিংবা নতুন করে যারা যেতে চান। তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। এখন দেশটিতে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীরা তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে জানানো হয়, যোগ্য দক্ষ প্রবাসী পরিবারের কর্তা হলে তার স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। কর্মীর নিজস্ব কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া চলার পাশাপাশি এসব পরিবারের সদস্যের প্রবেশ ভিসার আবেদনও প্রক্রিয়াধীন রাখা যাবে। আগের ব্যবস্থায় সাধারণত প্রবাসী কর্মীদের নিজেদের কর্মসংস্থান ও আবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে নওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে দুটি প্রক্রিয়া একই সময়ে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যাদের নিতে পারবেন নতুন প্রক্রিয়ায় দক্ষ প্রবাসী কর্মীর পরিবারের তিন ধরনের সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ১. স্ত্রী ২. ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে ৩. অবিবাহিত মেয়ে তবে পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে প্রবেশের পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবাসনের অনুমতি পাবেন না। দেশটিতে পৌঁছানোর পর সৌদি আইন, বিধি ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের আবাসন অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। মানতে হবে যেসব শর্ত প্রথমত, সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যোগ্য দক্ষ প্রবাসী এবং পরিবারের কর্তা হতে হবে। এরপর সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী নিজের কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসার আবেদন করা যাবে। পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসার আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়ক নথিপত্র দিতে হবে। আবেদন সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কর্মীর কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসাও দেওয়া হতে পারে। তবে নতুন নিয়মে সৌদি ভিসার অন্যান্য শর্ত বাতিল করা হয়নি। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। পরিবারের সদস্যরা প্রবেশ ভিসা পাওয়ার পর সেটির নির্ধারিত শর্ত ও মেয়াদ অনুযায়ী সৌদি আরবে যেতে পারবেন। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাদের আবাসন অনুমতির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দক্ষ প্রবাসী কর্মীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশটিতে বসবাসকারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের জন্যও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন ব্যবস্থায় তাদের নিজেদের কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই যোগ্য পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। আরটিভি/টিআর
যেভাবে সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদি আরবে অবস্থানরত অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ থাকছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল দেশটির সরকার। নতুন এই নিয়মে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের কাজের ভিসার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সৌদি আরবে আনার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য সৌদি আরবে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য বিদেশি কর্মীরা তাদের স্ত্রী বা স্বামী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলেসন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েসন্তানকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারবেন। সংবাদমাধ্যম বলছে, পরিবারের যোগ্য সদস্যদের প্রবেশ ভিসা বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক ভিসার প্রক্রিয়া চলার সময়ই দেয়া যাবে। তবে এ জন্য আবেদনের সব শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ পরিবারকে সৌদি আরবে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের ওয়ার্ক ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তাদের বসবাসের অনুমতিপত্র বা রেসিডেন্স পারমিট দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। আরটিভি/এসআর
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় বিমানবন্দর দুটির বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
ইরান সীমান্তবর্তী তুরস্কের আগ্রি প্রদেশের দোগুবেয়াজিত জেলায় জাহাজের আকৃতির একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে গবেষণা। অনেকের বিশ্বাস, এটি নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ। সম্প্রতি সেখানে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ করেছে সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল। তবে এখনই নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। গবেষক দলের উপপ্রধান ও মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোনস জানান, অনুসন্ধানের সময় কাঠামোটির বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোর ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে ভূগর্ভের নমুনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির নিচে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উঠে এসেছে কাঠামোটি কোনো একক পাথরের খণ্ড নয়। আগে ধারণা করা হয়েছিল, শক্ত কোনো পাথর দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় জাহাজের মতো আকৃতি ধারণ করেছে। কিন্তু কোর ড্রিলিংয়ের সময় বিভিন্ন গভীরতা থেকে ধারাবাহিকভাবে মাটির নমুনা পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ যে কাঠামোটি মানুষের তৈরি, এমন সিদ্ধান্তেও এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না। জোনস বলেন, ভূগর্ভে পাওয়া গাঢ় রঙের মাটি বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি পচে যাওয়া কাঠের অবশেষ কি না, নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক কর্মকাণ্ডের ফল ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। গত আগস্টে পরিচালিত রাডার স্ক্যানেও কাঠামোর নিচে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু বা গঠনের সংকেত পাওয়া গেছে। গত মে মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সেনকার আতিলা। পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ জন বিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। তেলচেকার ও উজেঙ্গিলি গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় টানা প্রায় ৯০ দিন ধরে চলে মাঠপর্যায়ের কাজ। গবেষকরা ওই এলাকার ভূখণ্ডের বিস্তারিত মডেল তৈরি করতে ড্রোন ব্যবহার করেন। মাটির নিচের গঠন শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক রাডার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কোর ড্রিলিংও করা হয়। এসব নমুনা ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। নূহ (আ.)-এর নৌকার সঙ্গে এই কাঠামোর সম্পর্কের দাবি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তুরস্কের ম্যাপিং ইঞ্জিনিয়ার ইলহান দুরুপিনার পূর্ব আনাতোলিয়া অঞ্চলে বিমান থেকে জরিপ চালানোর সময় প্রথম কাঠামোটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই এটি নিয়ে তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে নূহ (আ.)-এর নৌকার অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের দাবির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যান্ড্রু জোনস। তিনি বলেন, গবেষণার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাডার থেকে পাওয়া তথ্য, মাটির নমুনা ও কোর ড্রিলিংয়ের ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে এ গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে পারে। অর্থাৎ, এখন পর্যন্ত গবেষকদের হাতে রয়েছে কিছু অস্বাভাবিক ভূগর্ভস্থ গঠন ও মাটির নমুনা কিন্তু এগুলো নূহ (আ.)-এর নৌকার ধ্বংসাবশেষ, এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসকে
তুরস্কে নূহের নৌকার খোঁজে কী পেলেন গবেষকরা
আরও পড়ুন
যেভাবে সৌদি আরবে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর
দূতাবাসের হেফাজতে গোপনে ভিডিও পাঠানো সেই রেহেনা
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলা