
কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা ভাষার মরমি দার্শনিক, মানবতাবাদী ও কিংবদন্তি বাউল সংগীতশিল্পী ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ আয়োজনে বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে লালনের অবিস্মরণীয় অবদান এবং মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতির সর্বজনীন মূল্যবোধের প্রতি তাঁর দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, নেপালের সাহিত্যাঙ্গনের প্রতিনিধিবৃন্দ, যুবনেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ঢাকায় দায়িত্ব পালনকারী নেপালের সাবেক কূটনীতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত লালন শাহের চিরায়ত দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে একে বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, লালনের গান ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে প্রচলিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবতাবাদী বিশ্বাসকে মহিমান্বিত করেছে।
লালনের কালজয়ী গানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অভিন্ন মানবসত্তাকে উপলব্ধি করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লালনের শিক্ষা একটি অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে অবস্থানকারী মরমি ও আধ্যাত্মিক সংগীতসাধক এবং বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। লালনের গানের সর্বজনীন আবেদন ও তাৎপর্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো আজ এই ঐতিহ্যকে intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত রহমান বলেন, উভয় দেশই তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চর্চা থেকে শক্তি অর্জন করে। তিনি উল্লেখ করেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জোরদার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন করেন এবং লালনের কবিতা আবৃত্তি করেন। এসব পরিবেশনা অতিথিদের বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন শাহের জীবন, দর্শন এবং বাঙালি সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকল অতিথিকে মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।
আরটিভি/এসআর




