
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভয়ংকর এক মবের শিকার হয়েছে একটি খ্রিস্টান পরিবার। প্রার্থনা চলাকালীন তাদের বাড়িতে হানা দিয়েছে অন্তত ১০০ জন লোকের একটি দল; চালানো হয়েছে ভাঙচুর ও নির্যাতন। এমনকি হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে ওই বাড়ির ভেতরে রেখে দিয়ে গেছে একটি তুলসী গাছ এবং সেইসঙ্গে পরিবারটিকে জোরপূর্বক দেওয়ানো হয়েছে ‘বিশেষ’ ধর্মীয় স্লোগান।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরের ধলহরা গ্রামে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর)। ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা যায়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে হঠাৎ ১০০ জন লোক ওই খ্রিস্টান বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যদেরকে মারধর করে। বাড়ির ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও সেই মবের শিকার হয়।
‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’র তথ্যমতে, সোনালি ও বাপি রানা যখন বিকেলের প্রার্থনার আয়োজন করছিলেন, তখন ওই হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভাঙচুরের পর চলে যাওয়ার আগে বাড়ির ভেতরে একটি তুলসী গাছ রেখে যায় এবং পরিবারটিকে বিশেষ ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে।
এ ঘটনায় খ্রিস্টান পরিবারটি আইনি প্রতিকারও পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, পরিবারটি অভিযোগ দায়ের করতে চিকিৎসার নথিপত্রসহ কেশপুর থানায় যায়। তারা সেখানে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করলেও কোনো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি।
‘বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা’ আরও অভিযোগ করেছে যে, থানা চত্বরে এবং থানার বাইরে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
আরটিভি/এসএইচএম


