
মিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত।
বুধবার (২৬ আগস্ট) টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি।
মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন।
তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন।
অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত।
মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি।
মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত।
আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আরটিভি/এমএম


