
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কার্ডিওলজিস্ট ডা. মনজুর মোর্শেদ ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যাসল কনলি টপ ডক্টর’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ নিয়ে টানা চারবার তিনি এ সম্মাননা লাভ করলেন।
ক্যাসল কনলির বার্ষিক তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ১১ লাখেরও বেশি চিকিৎসকের মধ্য থেকে মাত্র ৭ শতাংশ চিকিৎসক স্থান পান। এটি কেবল রোগীদের সাধারণ জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং চিকিৎসকদের পেশাগত মনোনয়ন, যোগ্যতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়। ২০২৬ সালের প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৭২ হাজার চিকিৎসককে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের হৃদরোগ চিকিৎসায় দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রয়েছেন ডা. মনজুর মোর্শেদ। শিক্ষাজীবনে তিনি সুমা কাম লাউডে সম্মান, একাধিক ডিনস লিস্ট স্বীকৃতি, বৃত্তি ও পুরস্কার অর্জন করেন। তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ে তার ফলাফল ছিল প্রায় ৪.০ জিপিএর সমতুল্য।
চিকিৎসা শিক্ষা সম্পন্ন করার পর নিউইয়র্কের আলবার্ট আইনস্টাইন-অধিভুক্ত হাসপাতালে রেসিডেন্সি প্রশিক্ষণের সময় একজন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের সংস্পর্শে এসে কার্ডিওলজির প্রতি তার আগ্রহ গভীর হয়। অন্য বিশেষায়িত শাখায় যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি হৃদ্রোগ চিকিৎসাকেই পেশাগত জীবনের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন।
পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্ক, লং আইল্যান্ড এবং লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। হৃদ্রোগ বিষয়ে ফেলোশিপ চলাকালে চিফ কার্ডিওলজি ফেলো হিসেবে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধান, ফেলো নির্বাচনের সাক্ষাৎকার এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমেও দায়িত্ব পালন করেন।
ডা. মোর্শেদ বর্তমানে নিউইয়র্কের NYU Langone Hospitals-এর কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিকেল স্টাফ হিসেবে যুক্ত এবং NYU Grossman School of Medicine-এর সঙ্গে তার একাডেমিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি অ্যাভিসেনা কার্ডিওলজির মাধ্যমে রোগীদের হৃদ্রোগসংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
তার কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি নির্ণয় ও ব্যবস্থাপনা। ইকোকার্ডিওগ্রাফি, স্ট্রেস টেস্ট, নিউক্লিয়ার কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি এবং পেরিফেরাল ভাসকুলার ইমেজিংয়ের মতো আধুনিক পরীক্ষা ও প্রযুক্তির সঙ্গে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তার চিকিৎসাদর্শনে রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের আস্থার সম্পর্ক এবং সময়মতো ঝুঁকি শনাক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
চিকিৎসাসেবার বাইরে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ডা. মোর্শেদ নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর হৃদ্রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান নয়, সাহিত্যচর্চাতেও রয়েছে তার পদচারণা। স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনামূলক বই ছাড়াও মানবিক সম্পর্ক নির্ভর গল্প-উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। সম্প্রতি জাতিসংঘ কেন্দ্রিক এক কূটনৈতিক নৈশভোজেও তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
দীর্ঘ কাজের অর্জনের বিষয়ে ডা. মনজুর মোর্শেদ জানান, সম্মাননা ও স্বীকৃতির চেয়ে সংকটাপন্ন রোগীকে সুস্থ করে তোলা এবং মানুষের ভালোবাসাই তার পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আরটিভি/এআর


