
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে যৌন নিপীড়নের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়া প্রায় ৩৫ শতাংশ ছাত্রী ক্যাম্পাসে থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক বা অসহায় অবস্থায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
সম্প্রতি রাজ্য-নির্দেশিত ‘২০২৫ সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট অ্যান্ড রিলেটেড মিসকন্ডাক্ট’ শীর্ষক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, স্নাতক পড়ুয়া ছাত্রদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাদক খাইয়ে চি ফি (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা।
গত মার্চে প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্সিয়াল টাস্ক ফোর্সের এক সারসংক্ষেপ প্রতিবেদনে জানানো হয়, যৌন নিপীড়ন রোধে দীর্ঘ সময় ধরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে এই ধরনের অপরাধের হার এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি।
এসব ঘটনার অধিকাংশের সাথেই অ্যালকোহল বা মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, সাধারণ ছাত্রীদের (২৯%) তুলনায় ফ্র্যাটার্নিটি বা সোরোরিটি-সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের (৫২%) যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার হার অনেক বেশি।
অর্ধেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা সচেতন থাকলেও অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের রক্ষা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না।
এদিকে, টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবরের ওই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তারা নতুন করে অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছেন এবং বিষয়টি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করবেন।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী (যার ছদ্মনাম ‘জেন ডো’ ব্যবহার করা হয়েছে) একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি নতুন করে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
যদিও ফ্র্যাটার্নিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ ওঠার তিন দিনের মধ্যেই অভিযুক্ত সাত সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল।
আরটিভি নিউজ/এসআর


