ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

একই জায়গায় ৫ মৃত্যু, সিরিয়াল কিলার আতংকে মিশিগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ল্যানসিং শহরে ল্যানসিং নদীপথের একটি অংশের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ল্যানসিং শহরের একটি জনপ্রিয় হাঁটার পথে একের পর এক পাঁচজন পুরুষের মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাদের সবাই ওই পথের আশপাশে আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন। এসব ঘটনার পেছনে কোনো ধারাবাহিক খুনি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গৃহহীন ছিলেন এবং রাতে নদীর পাশের ওই পথে ঘুমাতেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ল্যানসিং নদীপথের একই অংশে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শহরটির পুলিশপ্রধান রবার্ট ব্যাকাসের ধারণা, ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র থাকতে পারে। বিশেষ করে গৃহহীন শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

পুলিশপ্রধান সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ল্যানসিংয়ে কোনো ধারাবাহিক খুনি সক্রিয় কি না। ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শহরের মেয়র অ্যান্ডি শোর অবশ্য সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, এসব হামলার লক্ষ্য ছিলেন মূলত রাতে নদীপথের পাশে ঘুমানো গৃহহীন পুরুষেরা। সাধারণ জনগণকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য নদীপথ এবং শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা নিরাপদ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন মেয়র।

নিহতদের একজন ৫৪ বছর বয়সী জিনো চৌইনার্ড। তার চাচা রবার্ট চৌইনার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে কয়েক মিনিট দেরি হওয়ায় একটি গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি জিনো। পরে তিনি তার বান্ধবীকে ফোন করে জানান, নদীপথের পাশে ঘুমাবেন।

পরদিন, ১৪ অক্টোবর (২০২৫ সালের) সকালে জিনোকে মাথায় গুরুতর আঘাতসহ অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ১৩ দিন পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একসময় তিনি উচ্চবিদ্যালয়ে কুস্তি ও ফুটবলে দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে ইরাকে জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর বিভিন্ন সময়ে তিনি গৃহহীন হয়ে পড়েন বলে জানান তার চাচা।

রবার্টের দাবি, জিনোর মাথার খুলি চূর্ণ হয়েছিল এবং তার ছয়টি পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। শরীরে আত্মরক্ষার চিহ্ন বা ধস্তাধস্তির লক্ষণ ছিল না বলেও জানান তিনি। তার ধারণা, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছিল জিনোকে।

একই পথে আরও চারজনের মৃত্যু

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী ডেনিস ডানব্যাকেকে গত ৯ জুলাই কালামাজু স্ট্রিট সেতুর কাছে মুখে আঘাতসহ উদ্ধার করা হয়। কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়। হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসাকর্মী ঘটনাটি অসুস্থতাজনিত হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন। পুলিশ অবশ্য বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করে।

এরপর ১৩ জুলাই সকালে ৫৭ বছর বয়সী রবার্ট স্মিথকে একই পথে মাথায় রক্তাক্ত আঘাতসহ অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। গত মাসে চিকিৎসা পরীক্ষক তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেন।

তৃতীয় আরেক ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্ককে ২০ আগস্ট ভোরে ছুরিকাঘাতে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এখনো জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন এবং তার মানসিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তদন্তাধীন অন্য মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সঙ্গে তার যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

পঞ্চম ব্যক্তি ৫৭ বছর বয়সী লুইস উডরাফ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট তাকে মুখে আঘাতসহ উদ্ধার করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুকেও হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাড়িয়েছে পুলিশ

পুলিশপ্রধান ব্যাকাসের ধারণা, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা রাতের বেলায় হয়েছে। তাদের অনেকে তখন শুয়ে ছিলেন, এমনকি ঘুমিয়েও থাকতে পারেন। ঘটনার সময় ওই এলাকায় কোনো নজরদারি ক্যামেরা বা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এরপর নদীপথে নজরদারির জন্য ক্যামেরাযুক্ত গাড়ি বসানো হয়েছে, টহল বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকার গৃহহীন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন সমাজকর্মীরা।

পুলিশপ্রধান বলেন, এসব ঘটনা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে—এমন ধারণা কারও হওয়া উচিত নয়।

এদিকে, জিনোর চাচা রবার্ট মনে করেন, এসব মৃত্যুর পেছনে ধারাবাহিক কোনো খুনি অথবা একই কায়দায় হামলা চালানো অনুকরণকারী থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখনো কোনো ধারাবাহিক খুনির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা সব সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।

সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের হুতিবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি বিবেচনা করবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন। হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হামলার দায় স্বীকার করেছেন।  হুতিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাবে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আল-বুখাইতি। সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, এসব হামলা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। রুবিও আরও জানান, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকও নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটায়। এক বিবৃতিতে গ্রুন্ডবার্গ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে, সহিংসতার চক্র দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। এ কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসআর
সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ম্যাসাচুসেটসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, কাঠগড়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২৩ বছর বয়সী সান্দ্রা বার্চমোরের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাথিউ ফারওয়েলের বিচার শুরু হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, কাঠগড়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে দেখা যেতে পারে মেরুজ্যোতি
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের আকাশে এ সপ্তাহান্তে দেখা যেতে পারে মেরুজ্যোতির (Northern lights) বর্ণিল আলো।
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে দেখা যেতে পারে মেরুজ্যোতি
পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, আহত আরেকজন
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলির শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, আহত আরেকজন
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় পাঁচটি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত
আরও পড়ুন
ম্যাসাচুসেটসে অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য, কাঠগড়ায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, লাপাত্তা ৩ রুমমেট
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে দেখা যেতে পারে মেরুজ্যোতি
পেনসিলভানিয়ায় গুলিতে পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, আহত আরেকজন