ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ষায় কেন বাড়ে চোখের ছোঁয়াচে রোগ, জানুন জরুরি সতর্কতা 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
বর্ষায় কেন বাড়ে চোখের ছোঁয়াচে রোগ? বাঁচতে এখনই জানুন জরুরি সতর্কতা । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা এলেই ডেঙ্গু, সর্দি-কাশির মতো নানা রোগের পাশাপাশি বাড়তে থাকে চোখের সংক্রমণের ঝুঁকিও। বিশেষ করে আই ফ্লু বা চোখ ওঠার সমস্যা এই সময়ে অনেক বেশি দেখা যায়। লাল চোখ, চোখ দিয়ে জল পড়া, চুলকানি ও জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা বর্ষায় দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে অনেকটাই এড়ানো সম্ভব এই সংক্রমণ।

চিকিৎসকদের ভাষায়, আই ফ্লু বা কনজাঙ্কটিভাইটিস হলো চোখের সাদা অংশ এবং চোখের পাতার ভেতরের পাতলা আবরণে হওয়া প্রদাহ। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অ্যালার্জির কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এতে চোখ লাল হয়ে যায়, জল পড়ে, জ্বালাপোড়া হয় এবং অনেক সময় আঠালো স্রাবও বের হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ বেশি দেখা যায়, কারণ তারা অনেক সময় অজান্তেই বারবার চোখে হাত দেয়।

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টির জল, ধুলো, দূষণ এবং ভিড় জায়গায় সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে আই ফ্লুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বাড়ি, স্কুল, অফিস কিংবা গণপরিবহনে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

আরও পড়ুন

চোখ ওঠার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত জল পড়া, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, চোখে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, আঠালো স্রাব বের হওয়া এবং আলোতে অস্বস্তি। এমন কোনও লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা। কারণ সারাদিনে আমরা অজান্তেই বহুবার চোখে হাত দিই। তাই সাবান ও পানি দিয়ে বারবার হাত ধোওয়া এবং অপ্রয়োজনে চোখে হাত না দেওয়াই প্রথম সুরক্ষা।

চোখ লাল হওয়া, ফোলা বা জ্বালাপোড়া শুরু হলে পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে কয়েক মিনিট চোখের ওপর রাখলে কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় অবশ্যই নিয়মিত ধুতে হবে এবং অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে ব্যবহার করা যাবে না।

চিকিৎসকেরা আরও সতর্ক করে বলছেন, সংক্রমণের সময় পুরোনো চোখের প্রসাধনী ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ এগুলোতে জীবাণু জমে থাকতে পারে, যা আবারও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর নতুন প্রসাধনী ব্যবহার করাই নিরাপদ।

এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো ওষুধের ফোঁটা ব্যবহার করা উচিত নয়। সব আই ফ্লু একই কারণে হয় না। তাই সঠিক কারণ জেনে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাদের সংক্রমণের সময় লেন্স ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। কারণ এতে চোখের জ্বালা আরও বাড়তে পারে এবং সুস্থ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, তোয়ালে বা রুমাল ভাগাভাগি করে ব্যবহার না করা এবং সংক্রমিত অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই আই ফ্লু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। চোখে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
মোবাইল-কম্পিউটারে চোখ ক্লান্ত? আরাম পেতে মানুন এই ৪ উপায়
কয়েক সেকেন্ড চোখে ঝাপসা দেখছেন? অবহেলা করলেই হতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ
বিশেষ উপায়ে চোখের যত্ন নিলে সহজে পড়বে না ছানি
চোখের নিচে ফোলাভাব বা কালো দাগ? সঠিক আন্ডার আইক্রিমেই লুকিয়ে আছে সমাধান