ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

আইফোনের বায়না থেকে চরম জেদ! সন্তানকে ‘না’ বলতে শিখবেন কীভাবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
সন্তানের সব চাহিদা পূরণ নয়, সময় দেওয়া ও আবেগ বুঝতে পারাই হতে পারে সুস্থ সম্পর্ক গড়ার মূল চাবিকাঠি । ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আইফোন কিনে দেওয়ার দাবি নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে তর্ক। এরপর এক তরুণের চরম সিদ্ধান্ত এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু—ভারতের মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে অনেককে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সন্তানের সব চাহিদা পূরণ করতে গিয়েই কি বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে?

বর্তমানে অনেক কর্মজীবী বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে সেই সময়ের অভাব পূরণ করতে সন্তান যা চায়, তা কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই সব চাহিদা পূরণ হতে থাকলে সন্তান ধীরে ধীরে ‘যা চাই, তা-ই পাব’—এমন মানসিকতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোরোগ চিকিৎসকদের মতে, কোনো চাহিদা পূরণ না হলে অতিরিক্ত রাগ, জেদ, ভাঙচুর, নিজেকে আঘাত করার হুমকি বা বিপজ্জনক আচরণের মতো বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এর পেছনে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বা অন্য মানসিক জটিলতাও থাকতে পারে। তবে এমন আচরণ দেখলেই কোনো নির্দিষ্ট রোগ আছে বলে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব চাহিদা পূরণ করাই সমাধান নয়

সন্তান দামি কোনো জিনিস চাইলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে কিনে দেওয়ার পরিবর্তে তাকে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বোঝানো প্রয়োজন। কোন চাহিদা প্রয়োজনীয় আর কোনটি শুধু ইচ্ছা—সেই পার্থক্যও ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা-মাকে প্রয়োজন হলে সন্তানকে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। তবে সেই ‘না’ যেন শুধু রাগ বা শাসনের মাধ্যমে না হয়। কেন কোনো কিছু এখন দেওয়া সম্ভব নয় বা কেন সেটি প্রয়োজনীয় নয়, তা শান্তভাবে বুঝিয়ে বলা জরুরি।

আরও পড়ুন

সন্তান জেদ করলে কী করবেন?

সন্তান কোনো কিছু না পেয়ে কান্নাকাটি বা জেদ করলে সঙ্গে সঙ্গে বকাবকি না করে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তার মন অন্যদিকে নেওয়া, গল্প করা, বই পড়া, ছবি আঁকা বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত রাখাও সহায়ক হতে পারে।

শাসন প্রয়োজন হলেও অপমানজনক কথা বা খারাপ ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। সন্তানকে বুঝিয়ে বলতে হবে, তার কোন আচরণটি ভুল এবং কেন ভুল। শুধু ভয় দেখিয়ে নয়, বন্ধুর মতো কথা বলেও অনেক সময় শিশুকে বোঝানো সম্ভব।

সময় দেওয়ার বিকল্প নেই

সন্তানকে শুধু দামি জিনিস কিনে দেওয়ার চেয়ে তার কথা শোনা এবং তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিশু বা কিশোর নিজের কষ্ট, হতাশা কিংবা ভয় পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে না। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা মানসিকভাবে আরও একা হয়ে যেতে পারে।

বাবা-মা ব্যস্ত থাকলেও সন্তানের জীবনে এমন কোনো বিশ্বস্ত বড় মানুষের উপস্থিতি থাকা দরকার, যার সঙ্গে সে নিজের কথা বলতে পারে। শিক্ষক, প্রশিক্ষক বা কাছের কোনো আত্মীয়ও সেই ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রযুক্তির বাইরে আনুন সন্তানকে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু-কিশোরদের শুধু মুঠোফোন বা প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, বই পড়া, গান, নাচ, নাটক বা অন্য সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বাস্তব জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশাও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সন্তানকে ছোট থেকেই বোঝাতে হবে—জীবনে সব ইচ্ছা পূরণ হবে না, ব্যর্থতাও জীবনের অংশ। কোনো কিছু না পাওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

সন্তানের আচরণে যদি বারবার নিজেকে আঘাত করার কথা বলা, আত্মহত্যার হুমকি দেওয়া, চরম হতাশা, অস্বাভাবিক রাগ বা বিপজ্জনক আচরণ দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
চালক-যাত্রীদের সহায়তায় বাসেই নারীর সন্তান প্রসব
চার সন্তানকে একা রেখে লাস ভেগাসে, ফিরে গ্রেপ্তার মা
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ: বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা, দিনভর পড়ে রইল মরদেহ
একই দিনে দুই বিমানবন্দরে সোনা ও আইফোন জব্দ