
পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘজীবী প্রাণী হিসেবে পরিচিত গ্রিনল্যান্ড হাঙর। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে, এই হাঙরের কোনো কোনো সদস্য প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এরা প্রজননে সক্ষম হতে প্রায় ১৫০ বছর সময় নেয়।
গ্রিনল্যান্ড হাঙর পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। গবেষকেরা রেডিওকার্বন পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি স্ত্রী গ্রিনল্যান্ড হাঙরের বয়স প্রায় ৪০০ বছর হতে পারে বলে ধারণা করেছেন। এ আবিষ্কার প্রাণিজগতের দীর্ঘায়ু নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
এই হাঙরগুলোর বৃদ্ধি অত্যন্ত ধীরগতির। সাধারণত বছরে মাত্র প্রায় এক সেন্টিমিটার করে বড় হয় তারা। ফলে পূর্ণ আকার ধারণ করতে তাদের দীর্ঘ সময় লাগে। ধীরগতিতে বেড়ে ওঠার কারণেই তাদের জীবনচক্রও অন্য অনেক প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘ।
মূলত উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের ঠান্ডা পানিতে বসবাস করে গ্রিনল্যান্ড হাঙর। সমুদ্রের গভীর অংশে থাকতে পছন্দ করা এই প্রাণীগুলো খুব ধীরগতিতে সাঁতার কাটে। তাদের ধীর বিপাকক্রিয়াও দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মনে করেন গবেষকেরা।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গ্রিনল্যান্ড হাঙর প্রজননক্ষম হতে প্রায় ১৫০ বছর বয়সে পৌঁছায়। অর্থাৎ মানুষের পুরো কয়েকটি প্রজন্ম পার হওয়ার পর তারা জীবনের সেই পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
একসময় ধারণা করা হতো, বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণী হলো বোহেড তিমি। একটি বোহেড তিমি ২০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে গ্রিনল্যান্ড হাঙরের সম্ভাব্য ৪০০ বছরের আয়ু সেই ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী সব ধরনের প্রাণী মিলিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীর তালিকায় গ্রিনল্যান্ড হাঙর শীর্ষে নয়। গবেষণায় এক ধরনের সামুদ্রিক ঝিনুকের ৫০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রাণিজগতের এই বিস্ময়কর সদস্য তাই শুধু দীর্ঘায়ুর জন্যই নয়, বরং অত্যন্ত ধীরগতির বৃদ্ধি ও দেরিতে প্রজননক্ষম হওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণেও বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয়।
আরটিভি/এসকে


