অনেকেই ওজন কমানোর আশায় বা ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা এড়িয়ে যান। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। দিনের প্রথম খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং সারাদিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে।
সকালের স্বাস্থ্যকর নাশতা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আঁশসমৃদ্ধ এবং কম চর্বি, কম চিনি ও কম লবণযুক্ত খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে বারবার অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সকালের নাশতা খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন নাশতা বাদ দিলে অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণে পরে একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্যকর সকালের নাশতায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা সবচেয়ে ভালো। যেমন—আটা বা লাল আটার রুটি, ওটস, লাল চালের চিড়া, কম চিনি থাকা শস্যজাত খাবার, দুধ, দই, ডিম এবং মৌসুমি ফল। এসব খাবার শরীরে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
এছাড়া সকালে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। এতে শরীরের পানিশূন্যতা কমে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। যাদের সকালে খুব বেশি ক্ষুধা লাগে না, তারা অল্প পরিমাণ হলেও স্বাস্থ্যকর কিছু খেয়ে দিন শুরু করতে পারেন।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ওজন কমাতে বা সময় বাঁচাতে সকালের নাশতা বাদ না দিয়ে বরং পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ দিনের প্রথম খাবারই হতে পারে সুস্থ জীবনযাপারের অন্যতম ভিত্তি।
আরটিভি/জেএমএ



