ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলার হুমকি দিয়ে হঠাৎ পিছু হটলেন ট্রাম্প; দ্রুত চুক্তির আশা! 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ পিএম

একদিন আগেও ছিল হামলার হুমকি। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল অবস্থান। ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? সম্ভাব্য নতুন একটি সমঝোতার আশায় নাকি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাহলে কি সত্যিই নতুন কোনো চুক্তির পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান?

শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আপাতত সামরিক অভিযান না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা প্রধান শর্তগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে হয়েছে সমঝোতা। সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিকে দ্রুত, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির অবসান ঘটানোর বিষয়টিও আলোচনার অংশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

এদিকে এই ঘোষণাটি আসে মাত্র একদিন পর, যখন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার অথবা রোববারের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। সেই প্রতিবেদনের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও সম্ভাব্য এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বানও জানান। তবে হামলা স্থগিতের এই ঘোষণার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে। অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয় বিবেচনা করতে অথবা স্বল্প নোটিশে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফ্লাইট বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ট্রাম্পের আগের হামলার হুমকির জবাবে ইরানও জানিয়েছে কঠোর প্রতিক্রিয়া। ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি এখন কূটনৈতিক আলোচনাও হয়ে উঠেছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ফেলতে পারে।বড় ধরনের প্রভাব।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
জাতিসংঘে ইরানকে দুটি প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প
কংগ্রেসকে না জানিয়েই ট্রাম্পের নতুন ‘এআই ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ 
নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির বাড়িতে হঠাৎ ট্রাম্পের বৈঠক, এরপর যা হলো
ট্রাম্পের হেলিকপ্টারে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হকি খেলোয়াড়