পায়ের নিচে নেই কোনো রাস্তা । নেই শক্ত মাটি কিংবা নিরাপদ কোনো সেতু। সামনে শুধু সরু একটি তার। আর তার নিচে প্রায় ৩৫০ মিটার গভীর শূন্যতা। এতটাই উঁচু যে নিচের গাড়িগুলোকে দেখায় খেলনার মতো ছোট। সেই ভয়ংকর উচ্চতাতেই এক পা, দুই পা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন দুঃসাহসী মানুষ। লক্ষ্য একটাই বিশ্ব রেকর্ড গড়া।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় শুরু হয় ব্যতিক্রমী এই হাই-ওয়্যার প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেন রাশিয়া, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সের দক্ষ টাইটরোপ ওয়াকাররা। মস্কোর আন্তর্জাতিক ব্যবসাকেন্দ্রের দুটি আকাশচুম্বী ভবনের মাঝখানে টানানো হয় ২৪৫ মিটার লম্বা একটি তার।
এক পাশে ছিল ওকো স্কাইস্ক্র্যাপার। অন্য পাশে নেভা টাওয়ার। মাঝখানে বাতাসে দুলতে থাকা সরু তারটি যেন আকাশের বুকে আঁকা একটি চিকন রেখা। সেই রেখার ওপর দিয়েই ভারসাম্য রেখে হাঁটতে হয় প্রতিযোগীদের।
চারপাশে কাচে মোড়ানো সুউচ্চ ভবন। নিচে ব্যস্ত শহরের কোলাহল। ওপরের দিকে বইছে ঠান্ডা বাতাস। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে শরীরও সামান্য দুলছে। হাতে থাকা লম্বা ভারসাম্যের দণ্ডটি কখনো ডানে, কখনো বাঁয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চোখ স্থির সামনের দিকে।
এই উচ্চতায় ভয়কে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং ভয়কে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। কারণ সামান্য অসতর্কতা মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে পুরো পরিস্থিতি। তবে প্রতিযোগীদের শরীরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও মানসিক চাপ ছিল প্রবল। এত দীর্ঘ পথ সরু তারের ওপর পাড়ি দেওয়া শুধু শরীরের পরীক্ষা নয়। এটি মন, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসেরও কঠিন পরীক্ষা।
আরটিভি/এআর




