ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কেন হলুদ জার্সি পরে খেলে ব্রাজিল, পেছনে আছে যে ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
কেন হলুদ জার্সি পরে খেলে ব্রাজিল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল মানেই উজ্জ্বল হলুদ জার্সি, গ্যালারিজুড়ে সবুজ-হলুদের ঢেউ এবং নান্দনিক ফুটবলের এক অনন্য প্রতীক। তবে ব্রাজিলের এই বিখ্যাত হলুদ জার্সির পেছনে লুকিয়ে আছে বেদনা, হতাশা এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক ঐতিহাসিক গল্প।

১৯৫০ সালের আগে ব্রাজিল জাতীয় দল মাঠে নামত সাদা জার্সিতে। কিন্তু দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে উরুগুয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রায় দুই লাখ দর্শকের সামনে ঘটে যাওয়া সেই হার ইতিহাসে ‘মারাকানা ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।

ম্যাচ শেষে পুরো দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। অনেক সমর্থক এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সাদা জার্সি হয়ে ওঠে দুর্ভাগ্যের প্রতীক। এরপরই শুরু হয় নতুন পরিচয়ের খোঁজ।

পরাজয়ের পর ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন জার্সি তৈরি করা হবে। ১৯৫৩ সালে আয়োজন করা হয় একটি নকশা প্রতিযোগিতা।

সে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন মাত্র ১৯ বছর বয়সী ডিজাইনার আলদির গার্সিয়া শ্লির। তাঁর নকশাতেই স্থান পায় ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার রঙ হলুদ শার্ট, সবুজ ট্রিম, নীল শর্টস এবং সাদা মোজা। জন্ম নেয় কিংবদন্তি ‘ক্যানারিনহো’ জার্সি।

১৯৫৪ সালে প্রথমবারের মতো নতুন হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামে ব্রাজিল। এরপর ধীরে ধীরে এই জার্সি শুধু একটি খেলার পোশাক নয়, বরং ফুটবল সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতার প্রতীকে পরিণত হয়।

এই জার্সি গায়ে ফুটবল ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন পেলে, জাইরজিনহো, জিকো থেকে শুরু করে সক্রেটিস সবাই এই জার্সিকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অমর করে রাখেন।

১৯৫৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে শুরু হয় ব্রাজিলের সোনালি অধ্যায়। এরপর ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে আরও চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে সেলেসাওরা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালের হৃদয়বিদারক পরাজয়ের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রতীক হিসেবেই হলুদ জার্সির জন্ম। সময়ের সঙ্গে এটি ব্রাজিলের জাতীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও গর্বের অংশে পরিণত হয়েছে।

তবে ইতিহাস সবসময় সুখের ছিল না। ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় আবারও পুরোনো ক্ষতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

বর্তমানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঐতিহ্য, আবেগ ও গৌরবের প্রতীক সেই হলুদ জার্সি পরে ব্রাজিল কি পারবে তাদের কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে?

আরও পড়ুন

সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত ব্রাজিলের হলুদ জার্সি শুধু একটি রঙ নয়, এটি ইতিহাস, আবেগ এবং পুনর্জন্মের এক অনন্য প্রতীক।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
শুরুতেই এবাদত-হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দুই উইকেট তুলে নিলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চোখ রাঙাতে থাকে রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতালের ব্যাট। আবারও সেই জুটি ভেঙে দেন এবাদত। এরপরও ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছে আফগানিস্তান। এদিকে জিততে হলে পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার আরও ৭ উইকেট। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। ফলে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। বাংলাদেশের দেওয়া ৪৭৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙে আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। টাইগার পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন আব্দুল মালিক। আউট হওয়ার আগে করেন ২ রান। পরের উইকেটে নামা শহীদুল্লাহকে ১৪ রানে আউট করেন হাসান মাহমুদ। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে চাপ সামলে নেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। দেখে-শুনেই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটার। তবে এই জুটি দিন শেষ করতে পারেনি আফগানরা। বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেনের করা বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত। আউট হওয়ার আগে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১২৪ বলে ৫১ রান। এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে নিয়ে দিন শেষ করেন আতাল। ১২৬ বলে ৩৫ রানে আতাল ও ২৭ বলে ১৯ রানে হাশমত অপরাজিত থাকেন। এদিকে তৃতীয় দিন শেষ বিকেলের ঝড়ে ১১ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটে ২২৩ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে তারা। ৫ রানে অপরাজিত লিটনের সঙ্গে নামেন মিরাজ, তখনও তিনি রানের খাতা খোলেননি। এই দুজনের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় স্কোর তিনশ পার করেন এবং লিড ছাড়ায় চারশ রানের। লিটন ১৪ ও ২৬ রানে জীবন পেয়ে ৬১ বলে এক টেস্টে টানা দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ২২তম হাফ সেঞ্চুরি করেন। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বেশ আগ্রাসী ছিলেন তিনি। ধীরে এগোতে থাকেন মিরাজ। এর আগে দুইবার জীবন পাওয়া লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান হতেই ৯ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে পৌঁছান। কায়েস আহমেদের বলেই দুইবার জীবন পান তিনি। প্রথমবার স্লিপের ফিল্ডার কামাল ক্যাচ ফেলে দেন। তারপর কায়েস নিজেই ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন, ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় তাকে। বড় লিড এনে দেওয়ার পথে বড় জুটি গড়েন লিটন-মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার মিলে তোলেন ১৪৯ রান। তাতেই লিডের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ফিফটি করেই থামেননি লিটন। ১১৫ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। এরপর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। ১০২ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। ১১৭ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ১৪টি চারে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মিরাজও। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রানে। ৭ উইকেটে ৩৭২ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যাট করতে নামবে স্বাগতিক আফগানিস্তান। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে। তারপর হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে সফরকারী দল। আরটিভি/ এসকেডি
শেষ দিনে বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, ড্রয়ের আশায় আফগানিস্তান
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম শেসনটি টাইগাররা নিজেদের করে নিয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ বিকেলে ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আজ দিনের প্রথম সেশনে আফগানিস্তানের বোলারদের হতাশা উপহার দিয়েছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে লিড সাড়ে চারশর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তারা।
লিটনের সেঞ্চুরিতে লিডের পাহাড়ে বাংলাদেশ
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের রায়ের পর ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সমর্থকরা। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের আগে আকাশে শত শত বাতাসভরা কলা উড়িয়ে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন তারা।
ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের ক্লাবে লিটন
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সাত সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত স্কোয়াডে চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাব্বির রহমান। আর দলকে নেতৃত্ব দেবেন আবু হায়দার রনি। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ের টিন কোয়াং রোড রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে ছয় ওভারের এই টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোট ১২টি দেশ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে এই দুই দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে রনির দল। গ্রুপের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পর্বে বাংলাদেশের অবস্থান। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলগুলো মূল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে খেলবে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলো খেলবে প্লেট প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে। আর গ্রুপে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর জন্য থাকছে বোল প্রতিযোগিতা। হংকং সিক্সেসের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। অভিজ্ঞ সাব্বির রহমানের অন্তর্ভুক্তি দল ঘোষণায় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়া। হংকং সিক্সেসের জন্য বাংলাদেশের সাত সদস্যের স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক আবু হায়দার রনি, সামিউন বশির, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আহরার আমিন, সাব্বির রহমান ও হাবিবুর রহমান সোহান। আরটিভি/এসকে
চমক দিয়ে হংকং সিক্সেসে বাংলাদেশের দল ঘোষণা, ফিরলেন সাব্বির
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের খেসারত ব্রাজিলের, সুখবর পর্তুগালের
ব্রাজিলে ভোটগ্রহণ শেষ, লুলা-বলসোনারোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
ব্রাজিল কেন ঘুরে ঘুরে বিদেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলে?
ব্রাজিলে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, কঠিন লড়াইয়ে লুলা-ফ্লাভিও