ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সেতু আছে, ১০ বছরেও জোটেনি ওঠার সড়ক

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
নির্মাণের প্রায় ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সেতুটি কোনো কাজে আসেনি। ছবি: আরটিভি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু নির্মাণের প্রায় ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সেটি কোনো কাজে আসেনি। এই সেতু দিয়ে এখনো কোনো গাড়ি, মানুষ এমনকি গবাদিপশুও চলাচল করেনি। ফলে সেতুটি এলাকার মানুষের জন্য উপকারের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরষপুর রেলওয়ের ৩২ নম্বর ব্রিজের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হলেও হাসিনাবাদ-জামালপুর সংযোগ সেতুটি সংযোগ না থাকায় চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল ব্রিজের পাশেই থাকা এই কালভার্টটি আজও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

হরষপুর থেকে কাশিমনগর খুব কাছের এলাকা হলেও সেতু না থাকায় স্থানীয় মানুষকে ৪ কিলোমিটারের পথ যেতে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে এবং অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে।

বর্ষাকালে নালায় পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। তখন অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল ব্রিজের ওপর কাঠের তক্তা চেপে পারাপার হন। প্রায় ১৫০ ফুট লম্বা এই ব্রিজ পার হতে একজন সুস্থ মানুষেরও ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় হঠাৎ ট্রেন চলে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দুর্বল মানুষদের পক্ষে এই পথ পার হওয়া প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুন

স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হরষপুর থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত আধা-পাকা রাস্তা তৈরি হলেও সংযোগ সেতু না থাকায় সেই রাস্তার পুরো সুবিধা তারা পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সেতুটি মেরামত করে চালু করার জন্য আমরা কাজ করছি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুটি চালু করা হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে তারা মুক্তি পাবেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরা হলো না দুই চাচতো ভাইয়ের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় নামিম খাঁ (১৯) ও নিরব খাঁ (১৮) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন৷ 
মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরা হলো না দুই চাচতো ভাইয়ের
২৭ বছর পর মসজিদের ইমামকে বিদায়, দেওয়া হলো লাখ টাকা উপহার
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর দায়িত্ব পালনের পর  মসজিদের ইমামকে বিদায় দিয়েছে এলাকাবাসী। বিদায়কালে এক লাখ টাকা উপহারের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়েছে।
২৭ বছর পর মসজিদের ইমামকে বিদায়, দেওয়া হলো লাখ টাকা উপহার
গাছে বেঁধে ২ মাদক কারবারিকে বেধড়ক পিটুনি, অতঃপর...
মাদক সেবী, মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত এরা চুরিসহ অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। এসব কাজে অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করে তাদের। একটি গাছের সাথে বেঁধে গণধোলাই দিয়ে পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদের।
গাছে বেঁধে ২ মাদক কারবারিকে বেধড়ক পিটুনি, অতঃপর...
৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বাবা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে কুমিল্লা থেকে আসা ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুইদিন পর একই পরিবারের চার জনের মধ্যে তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বাবা হেলাল উদ্দিন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটায় বৈদ্যার বাজার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলার শ্রীমন্দী গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ে মায়াময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে গরু, ছাগলসহ ১৩ জন যাত্রী নিয়ে তারা বৈদ্যার বাজারে যাওয়ার পথে নদী মাঝে ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে ট্রলারটি উল্টে পানিতে ডুবে যায়।  এ সময় ৮ জন সাঁতরে পাড়ে উঠে যায়। পরে রাশিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিখোঁজ থাকে একই পরিবারের হেলাল, তার ছেলে সজিব, মেয়ে সামিয়া ও শিশু ছেলে সামিন। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরও একজনের মরদের উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে। আরটিভি/এসএস
৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বাবা
সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
নওগাঁর মান্দায় সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক আবেদনকারী। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল।  মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলার কয়াপাড়া এলাকার মৃত রহিম উদ্দীনের ছেলে ও ‘সৈকত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান। তিনি নিজেও সার ডিলার নিয়োগের একজন আবেদনকারী।   ​অভিযোগের অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও পাঠানো হয়েছে। ​অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর ছিল আবেদনের শেষ সময়। এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী। এ কারণে প্রক্রিয়াটির শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   ​জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ আগস্ট জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ৯৯ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ, ভালাইন, পরানপুর, মান্দা, গণেশপুর, মৈনম, প্রসাদপুর, কুসুম্বা, তেঁতুলিয়া, নূরুল্যাবাদ, কালিকাপুর, কাঁশোপাড়া, কশব ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে একজন করে মোট ১৪ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। ​অভিযোগকারী সাইদুর রহমান বলেন, যোগ্যতা ও বিধিমালা অনুসরণ করে যেন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়, সে দাবিতেই অভিযোগ করেছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকলে যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হবেন। শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হবে না এবং সার কালোবাজারির সুযোগও কমবে। ​অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সুপারিশের সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন বলেন, যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনীত করা উচিত। কোনো অনিয়মের মাধ্যমে কেউ ডিলার হয়ে কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করুক আমরা তা চাই না। অভিযোগকারীর কাছে প্রমাণ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। ​এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শায়লা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা পছন্দের কাউকে সুযোগ দেওয়ার অবকাশ নেই। তিনি বলেন, আমাদের মাত্র তিন দিন সময় ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে যে প্রতিবেদন বা রিপোর্ট দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে কার্যক্রম পাঠানো হয়েছে। ​আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো কর্মকর্তা কী করেছেন তা না বললেও, নিজের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং এটি তিনি চ্যালেঞ্জ করতে প্রস্তুত।  ডিসি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র বা অভিযোগ তাদের দপ্তরে পৌঁছায়নি।   ​এদিকে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে। একই সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনিয়ম নিয়ে আপনারা এত ইন্টারেস্ট দেখান কেন? পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ​এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আতিয়া খাতুন বলেন, জেলা প্রশাসক (ডিসি) স্যার বরাবর একটি আবেদন বা অভিযোগ করা হয়েছিল। বিষয়টি ডিসি স্যার আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তদন্ত করার জন্য। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে ও তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ​এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/এসএস
সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, অতঃপর...
মাইকিং করেও দুর্ভোগ লাঘব হলো না ৮০ হাজার মানুষের
ভিত্তিপ্রস্তরেই আটকে আছে মীরগঞ্জ সেতুর স্বপ্ন
জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ