ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নাকে চেতনানাশক স্প্রে করে মুহূর্তেই স্মৃতিভ্রম, অতঃপর...

​নওগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
মো. আবু হাসান, মো. বাবু এবং মো. সবুজ : ছবি আরটিভি

নওগাঁয় বহুল আলোচিত ও ভয়ঙ্কর রাসায়নিক ‘স্কোপোলামিন’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (Devil's Breath) ব্যবহারকারী একটি চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলা থেকে শনিবার (২০ জুন) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেপ্তারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।

গ্রেপ্তার হলেন— মো. আবু হাসান, মো. বাবু এবং মো. সবুজ। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।

​নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও প্রযুক্তির সহায়তায় টাঙ্গাইল জেলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেপ্তারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।

​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে একদল অপরাধী বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে আসছিল। চক্রটি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ খ্যাত বিশেষ কেমিক্যাল কৌশলে ভিকটিমের নাকে প্রয়োগ করতো।

আরও পড়ুন

​এই কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করার পর ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে স্মৃতিভ্রম হয়ে পড়েন এবং অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। সম্মোহিত অবস্থায় ভিকটিম নিজেই নিজের কানের দুল, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা বাসার আলমারি খুলে টাকা-পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিতেন।

​নওগাঁ থানায় এই সংক্রান্ত মোট তিনটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ।

gnooo
সিসি ফুটেজ থেকে নেওয়া চক্রের ছবি

​তদন্তের অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা পুলিশের একটি দল বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ডেটাভিত্তিক এনালাইসিসের মাধ্যমে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটি ২০ জুন (২০২৬) টাঙ্গাইলে নতুন একটি অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

​খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি শক্তিশালী দল টাঙ্গাইলে রওনা হয়। এরপর টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হাতেনাতে চক্রের ওই ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকাকে কেন্দ্র করে এই অপরাধী চক্রটির প্রায় ৮ থেকে ১০টি আলাদা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে এই কেমিক্যালের মাধ্যমে সম্মোহিত করে লুটপাট চালায়। ইতোমধ্যে তারা নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ১০টি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে।

​এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অপরাধের সময় তারা একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল বা ছক ব্যবহার করে। চক্রের প্রথম সদস্য অত্যন্ত নিরীহ সেজে বয়স্ক কোনো নারীর কাছে গিয়ে সাহায্য চায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় আরেকজন এসে ভিকটিমকে কথায় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। এর মাঝেই তৃতীয় সদস্য এসে ভিকটিমের ওপর ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা বিশেষ কেমিক্যাল স্প্রে করে দেয়।

​কেমিক্যাল ফুসফুসে প্রবেশ করার পরপরই ভিকটিম নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অবচেতনভাবেই অপরাধীদের কথামতো নিজের সব মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের হাতে সঁপে দেন।

​পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম আরও জানান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং এই ধরনের অভিনব ও ভয়ঙ্কর অপরাধ দমনে অত্যন্ত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ
নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে চাঁদা দাবি, ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে বড় বিপাকে আনোয়ার
তিন লাখ টাকাসহ ৩ মাদক কারবারি ধরা