সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একটি গ্রামে বসবাসকারী গ্রামবাসীদের বহু বছরের একটি চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় ওই গ্রামের কৃষক, চাকরিজীবী, নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪০টি পরিবার চলাচলের পথ বন্ধ গেছে। যাতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারগুলো।
ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গ্রামপ্রধানদের কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের এলাকার আশপাশে ৪০টি পরিবারের সদস্যরা বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছেন। মূলত- পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে চলাচলের ওই রাস্তায় ফসল আনা-নেওয়া, রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ যাবতীয় কাজে ব্যবহার করে আসছেন। আবার একই পথে থাকা মনোহরপুর জামে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছিলেন পরিবারগুলোর মুসল্লীরা। অথচ গ্রামের কতিপয় গ্রামপ্রধান স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে। যার ফলে ঈদগাহ মাঠের আশেপাশের ৪০টি পরিবারের সদস্যরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গ্রামপ্রধান মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ওই পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য অন্য আরেকটি রাস্তা আছে। তারা সেখান দিয়েই চলাচল করবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের একাধিক সদস্য জানান, বিকল্প রাস্তাটি অত্যন্ত সরু, তাতে একজন মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলার কঠিন।
ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়েই চলাচলের একমাত্র রাস্তা দাবি করে মো. শাহআলম প্রাং, মোছা. জমিনা খাতুন, মোছা. লাইলী খাতুনসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণ হোক এটা আমরাও চাই। তবে দীর্ঘদিন ধরে আমরা ৪০টি পরিবারের মানুষ একমাত্র এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে আসছি। অথচ ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের পরিবারগুলোকে অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আর প্রাচীর নির্মাণ হলে আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। ছেলে- মেয়েরাও স্কুলে যেতে পারবে না। তাই ভুক্তভোগী ৪০ পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাড়াশ ইউএনও বরাবর দাখিল করেছি।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




