
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পাশাপাশি দুটি দোকান থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মোবাইল ফোন, স্বর্ণ-রুপার অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকালে সৈয়দপুর প্লাজার প্রথম গেট দিয়ে কয়েকজন মুখোশধারী যুবক কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিকল্পিতভাবে প্রথমে একটি মোবাইল ফোনের শোরুমে ঢুকে চুরি করে। এরপর পাশের একটি জুয়েলার্সে চুরি করে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনার কিছু অংশ মার্কেটের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন যুবক মার্কেটে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজন ইনফিনিক্স মোবাইল শোরুমের সামনে গিয়ে ব্যাগ থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম বের করে। অন্য দুজন মূল গেটের দিকে অবস্থান নিয়ে পাহারা দিতে থাকে। তালা কেটে শোরুমে ঢোকার পর তারা বিপুলসংখ্যক মোবাইল ব্যাগে ভরে দ্রুত বের হয়ে যায়। পরে একই কায়দায় পাশের বিদ্যুৎ জুয়েলার্সে ঢুকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়।
ইনফিনিক্স শোরুমের আহাদ জানান, শোরুম খুলতে এসে তিনি দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে দেখেন, শোরুমে রাখা কোনো মোবাইলই নেই। সেখানে প্রায় দেড় শতাধিক মোবাইল ছিল, যেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার কথা ছিল। এ ছাড়া কিছু নগদ টাকাও ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
পাশের বিদ্যুৎ জুয়েলার্সের আসিফ খান টিপু জানান, তাদের দোকানে খুচরা ও পাইকারি রুপার অলংকার বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি কিছু স্বর্ণের অলংকারও ছিল। সকালে দোকানে এসে তিনি ভেতরের সবকিছু এলোমেলো দেখতে পান। চোরেরা রুপার অলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট জেলার সবচেয়ে বড় মার্কেট এবং উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শপিং মল। এখানে শত শত দোকান রয়েছে। মার্কেটের নিরাপত্তায় দিন-রাত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সকালেও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব শুরু হয় প্রায় ৭টার দিকে। এর মধ্যে এমন বড় ধরনের চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেটের প্রকল্প পরিচালক গোলজার আহমেদ জানান, সকালে এসে তিনি চুরির ঘটনা জানতে পারেন। মার্কেটের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার সার্বিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে। চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুরি-ছিনতাই মোকাবিলায় পুলিশের আলাদা একটি দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গত কয়েক মাস ধরে সৈয়দপুর শহরে ছোটখাটো চুরি ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। এবার শহরের সবচেয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত ও ব্যস্ততম মার্কেটগুলোর একটিতে একই সকালে পাশাপাশি দুটি দোকানে বড় ধরনের চুরির ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঘটনার পর ব্যবসায়ী মহল ও শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



