
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক মায়ের ফোন কলের সূত্র ধরে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৯ বছরের এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে, পটিয়া থানা এলাকা থেকে এক কলার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান যে, স্থানীয় শাহ মালেকিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার এক শিক্ষক ৯ বছরের এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করছে এবং সেখানে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একপর্যায়ে কলার ভুক্তভোগী ছাত্রের মায়ের সঙ্গে ৯৯৯-এর কথা বলিয়ে দেন এবং তারা দ্রুত আইনি প্রতিকার চান।
কলটি রিসিভ করেছিলেন ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল সালমান এবং সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেছিলেন পুলিশ ডিসপাচার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান। ৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পটিয়া থানাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০-২৫ দিন আগে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগী ছাত্রকে ভোররাতে ডেকে নিয়ে রান্নাঘরে পানি আনতে পাঠান। এরপর তিনি পেছনে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রটিকে বলাৎকার করেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্রটিকে নিজের রুমে নিয়েও একাধিকবার একই কাজ করেন। ১০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর মা ছেলেকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর ছেলে আর মাদরাসায় যেতে চায় না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে মাদরাসার শিক্ষকের এই কুকর্মের কথা মাকে খুলে বলে।
এরপর ছাত্রের মা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষককে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং উল্টো খারাপ আচরণ শুরু করেন। এতে এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষককে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পটিয়া থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. রবিউল ইসলামকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ইসলামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থানার ফৈজানীর পাড়া গ্রামে। তিনি বর্তমানে পটিয়ার আমজুরহাট এলাকার শাহ মালেকিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় কর্মরত। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের মা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা করেছেন।
আরটিভি/এসএস


