
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ৫ আগস্টের পর উধাও হয়েছেন কাজের ঠিকাদার। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘর নলডাঙ্গা পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি, খোঁজ নেই ঠিকাদারেরও।
জরাজীর্ণ পুরোনো পোস্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালে নলডাঙ্গা পোস্ট অফিস ভবন সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়। ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে মূল অফিসকক্ষের দরজা-জানালা নেই। ভেতরে রাখা হয়েছে কাঠ ও লাকড়ির স্তূপ। একই সঙ্গে সেটি ব্যবহার হচ্ছে কর্মীদের সাইকেল ও মোটরসাইকেল রাখার স্থান হিসেবে।
অফিসের পাশের মাত্র ১০ বাই ১০ ফুটের একটি কক্ষে চারটি টেবিল পেতে আটজন ডাককর্মী ঠাসাঠাসি করে কাজ করছেন। এর পাশের প্রায় ৬ ফুটের আরেকটি ছোট কক্ষে দাপ্তরিক কাজ চালাচ্ছেন উপজেলা পোস্টমাস্টার। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ডাক বিভাগের কর্মীরা। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি ও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথি গ্রহণ ও বিলি-বিতরণেও ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম। জরাজীর্ণ ভবনটিতে নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্ট অফিসের মূল প্রবেশদ্বারের দরজা ও জানালা নেই। ভবনের ভেতরে কাঠ-লাকড়ির স্তূপ এবং কর্মীদের মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। পাশের ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে চলছে অফিসের কার্যক্রম।
উপজেলা পোস্টমাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, তিনি এক বছর আগে এখানে যোগ দিয়েছেন। তার যোগদানের আগ থেকেই ভবনটি এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালে টেন্ডার হয়েছিল এবং ঝিনাইদহের এক ঠিকাদার কাজও শুরু করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদার একদিনও এখানে আসেননি। ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের নামও তিনি জানেন না বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাককর্মী জানান, ঠিকাদার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। ৫ আগস্টের পর ভবনের কাজ বন্ধ রেখে তিনি চলে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।
ঝিনাইদহ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রিয়াজুল হক জানান, তিনি কয়েক মাস আগে এ কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। কালীগঞ্জ প্রধান পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজ কেন বন্ধ বা ঠিকাদার কে ছিলেন, তা তিনি বলতে পারেননি। তবে কালীগঞ্জ পোস্ট অফিসের মতো অনেক উপজেলার পোস্ট অফিসের সংস্কারকাজও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
জরাজীর্ণ পুরোনো পোস্ট অফিস সংস্কার প্রকল্পের সাব-ইঞ্জিনিয়ার তাইবুর রহমান জানান, তিন মাস আগে তিনি কালীগঞ্জ প্রধান পোস্ট অফিস ভবন পরিদর্শন করেছেন। ২০২৩ সালে ভবন সংস্কারের টেন্ডার হয়েছিল। তবে কাজের বরাদ্দ বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম তিনি বলতে পারেননি। খুব শিগগিরই কাজ আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ জানান, ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন বা কাজ বন্ধ রয়েছে— বিষয়টি তিনি প্রথমবারের মতো জানতে পারলেন। পোস্ট অফিসের কর্মকর্তারাও কখনো সমস্যাটি নিয়ে তার কাছে আসেননি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে



