ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে পায়রা বন্দর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে চীনের পতাকাবাহী ‘ফান ঝৌ-৬’ জাহাজ সরাসরি এসে ভিড়েছে। বন্দরের কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও আধুনিক করতে কেনা পাঁচটি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে আজ সকাল ১০টার দিকে প্রথম টার্মিনালে নোঙর করে জাহাজটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পায়রা বন্দরের কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও দক্ষ করতে এসব সরঞ্জাম আনা হয়েছে। নতুন ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ায় জাহাজ থেকে কম সময়ে পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কমবে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং বাড়বে বন্দরের সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা। প্রথম টার্মিনালের জন্য আনা পাঁচটি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৮০ টন ধারণক্ষমতার দুটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) বা কুয়ে গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৪০ টন ধারণক্ষমতার দুটি রাবার-টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন এবং ৮০ টন ধারণক্ষমতার একটি মোবাইল হারবার ক্রেন (এমএইচসি)। এসব যন্ত্রপাতি নির্মাণ করেছে চীনের নানজিং পোর্ট অ্যান্ড হারবার মেশিনারি কোম্পানি (এনপিএইচএমসি) ও শুঝো কনস্ট্রাকশন মেশিনারি গ্রুপ (এক্সসিএমজি)।

এ বিষয়ে পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে কনটেইনার লোড-আনলোড করা হবে। আরটিজি ক্রেন দিয়ে ট্রেইলার থেকে কনটেইনার ওঠানামা এবং ইয়ার্ডে কনটেইনার সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ করা হবে। অন্যদিকে এমএইচসির মাধ্যমে বাল্ক কার্গো ও কনটেইনার খালাসের কাজ আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, ১৭০ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬ মিটার ড্রাফটের ‘ফ্যান ঝৌ-৬’ জাহাজটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের পিংতান বন্দর থেকে পায়রার উদ্দেশে যাত্রা করে। নতুন সরঞ্জামগুলো যুক্ত হওয়ায় বন্দরের কার্গো অপারেশন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ভবিষ্যতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা বাড়ানো গেলে আরও বেশি ড্রাফটের বড় মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের জেটিতে আনা সম্ভব হবে। এতে বিপুল পরিমাণ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পায়রা বন্দরের অবদান আরও বাড়বে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ উল ইসলাম বলেন, পাঁচটি অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বন্দর পূর্ণ সক্ষমতার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গাড়ি আমদানির জন্য ডেডিকেটেড ইয়ার্ড ও শেড ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন ক্রেন যুক্ত হওয়ায় ৬৫০ মিটার মাল্টিপারপাস বার্থের সক্ষমতাও পূর্ণতা পেয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে রাবনাবাদ চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা জরুরি। নাব্যতা ঠিক রাখা গেলে বড় মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হবে। প্রযুক্তিনির্ভর কার্গো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে এর বিকাশের পথও সুগম হবে।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জামবাহী মাদার ভেসেলের সরাসরি জেটিতে বার্থিংয়ের মধ্য দিয়ে পুনরায় শুরু হলো বন্দরের সরাসরি জাহাজ বার্থিং কার্যক্রম।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ৫০ হাজার ৫০০ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি জেইন’ এবং একই বছরের ১ নভেম্বর ৪৮ হাজার ৫১১ টন পাথর নিয়ে ‘এমভি দা হং-১৬’ নামের দুটি মাদার ভেসেল সরাসরি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে বার্থিং করে পণ্য খালাস করেছিল।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
লালশাক ক্ষেতে মিলল ৫১ গাঁজা গাছ, দুই ভাই আটক
বাড়ির পাশের খালে পড়ে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু
মাঠের ভেতর এতিম সেতু, কেউ জানে না কেন