
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর। এরপরই মাছ শিকারে নামবেন উপকূলের জেলেরা। মাছ ধরার সুযোগ পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নোয়াখালীর হাতিয়ার জেলেপল্লিগুলোতে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন প্রায় এক লাখ জেলে।
গত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা জেলেরা যথাযথভাবে পালন করলেও সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাটের প্রবীণ জেলে জানে আলম (৬৭) জানান, অনেক দিন পর মাঝি-মাল্লারা ঘাটে ফিরেছেন। ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সবাই বাড়িতে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাত ১২টার পর তারা নদীতে নামবেন। এ জন্য নৌকা ও জাল প্রস্তুত করা, ইঞ্জিনের জ্বালানি সংগ্রহসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দীর্ঘ বিরতির পর সবার মধ্যে কর্মতৎপরতা ফিরে এসেছে।
একই ঘাটের জেলে নুর উদ্দিন জানান, তার পরিবারে আটজন সদস্য। ২২ দিন বেকার থাকায় উপার্জন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল পেলেও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। এখন নদীতে যাওয়ার জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছেন তিনি। মাছ শিকার শুরু হলে সংসার ভালোভাবে চলবে বলে আশা তার।
সূর্যমুখী ঘাটের মতো হাতিয়ার ২০টি ঘাটে প্রায় ১০ হাজার জেলে নৌকার মাঝি-মাল্লা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিজ নিজ নৌকা ও ট্রলার নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এতে ঘাটগুলোতে বেড়েছে হাঁকডাক।
শুধু জেলেরা নন, কর্মতৎপরতা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বিভিন্ন ঘাটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে দেখা গেছে।
কাজীর বাজার ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুস শহিদ জানান, মাছের আড়ত, মুদি দোকান, খাবারের হোটেল, বরফকলসহ মাছঘাটকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন পর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় সবাই খুশি।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে ১৫ হাজার জেলে পরিবারকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দুস্থ ও অসহায় পরিবার বাছাই করে এই চাল বিতরণ করা হয়। ইতোমধ্যে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে নজরদারিতে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করেছে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকটি ট্রলার ও জেলেকে আটক করা হয় এবং মাছ জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল-জরিমানা করা হয়।
হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এরপরই জেলেরা নদীতে গিয়ে মাছ শিকারের সুযোগ পাবেন। এর আগে কাউকে নদীতে নামতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


