
খুলনার পাইকগাছায় মায়ের নামে থাকা জমি লিখে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবা ও বোনকে মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বৃদ্ধা মায়ের হাত-পা বেঁধে তাকে জোর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় বড় ছেলে ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আরেক মেয়ে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে পাইকগাছা থানায় উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে শুনানি হয়।
এ সময় বৃদ্ধ বাবা ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বড় ছেলে। তার দাবি, মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি বাবার কাছ থেকে ছোট ভাই জমি পেয়েছেন, তাই তিনিও জমি চান।
পরিবার ও থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাটকেলপোতা গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী গাজীর (৮০) দুই ছেলে ও চার মেয়ে। তার ছোট ছেলে জীবিকার প্রয়োজনে প্রবাসে থাকেন। বড় ছেলে আব্দুর রহমান গাজী পরিবার নিয়ে পাইকগাছা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। বৃদ্ধ ওমর আলী গাজী ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬৫) ছোট ছেলের সংসারে থাকেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওমর আলী গাজী তার মালিকানাধীন এক বিঘা জমি ছোট ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে মায়ের নামে থাকা আরও তিন বিঘা জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ নতুন করে জটিল আকার ধারণ করে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ নভেম্বর সকাল আনুমানিক আটটার দিকে আব্দুর রহমান গাজী তার দুই ছেলে রাকিবুল্লাহ গাজী ও রিয়াজুল্লাহ গাজী এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পাটকেলপোতা গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা বৃদ্ধ বাবা ও বড় বোন ইরানী বেগমকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগমের হাত-পা বেঁধে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাবেয়া বেগমকে একটি ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে করে পাইকগাছা পৌর এলাকায় অভিযুক্ত ছেলের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে রয়েছেন।
এ ঘটনায় ঘটনার দিনই মেয়ে ইরানী বেগম বাদী হয়ে তার ভাই আব্দুর রহমান গাজী ও দুই ভাইপোর বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
শনিবার থানায় অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির সময় বৃদ্ধ ওমর আলী গাজী ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বড় ছেলে তার ওপর অমানবিক অত্যাচার করেছে। মায়ের জমি লিখে নেওয়ার জন্য তার হাত-পা বেঁধে মাকে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে। মাকেও নিজের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান গাজী তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বাবা ছোট ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দিয়েছেন। তিনিও জমি চান। এ ছাড়া মাকে নিজের কাছে রাখার জন্য তিনি নিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, আমি এলাকায় ছিলাম না। তবে অনেকেই ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক।
পাইকগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন-অর-রশিদ বলেন, উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু বৃদ্ধা মাকে আনেনি। তার বক্তব্য জানতে পারিনি। উভয়পক্ষ বুধবার পর্যন্ত সময় নিয়ে গেছে। এর মধ্যে নিজেরা মীমাংসা করবে বলে জানিয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


