
বয়স যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে কোনো বাধা নয়, তার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মো. বেলায়েত শেখ। ৫৯ বছর বয়সে জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু করা সম্ভব বেলায়েত শেখের গল্প যেন তারই প্রমাণ।
রোববার (৩০ আগস্ট) স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা যোগাযোগ ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সমন্বয়ক, সহকারী অধ্যাপক রিফাত সুলতানা জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বেলায়েত শেখ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষাজীবনে ফিরে আসেন বেলায়েত শেখ। ২০১৭ সালে ৫০ বছর বয়সে ঢাকার দারুল ইসলাম আলিম মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে লেখাপড়া শুরু করেন বেলায়েত শেখ। এরপর ২০১৯ সালে এসএসসি এবং ২০২১ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন বেলায়েত শেখ।
২০২২ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা যোগাযোগ ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বয়সের ব্যবধান, পারিবারিক ও আর্থিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তিনি হাল ছাড়েননি। নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাশ ও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষপর্যন্ত অনার্সের গণ্ডি পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছেন।
অনার্স পাসের অনুভূতি প্রকাশ করে বেলায়েত শেখ বলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। জীবনে যত বাধাই আসুক, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। যারা বয়সের কারণে পড়াশোনা থেকে দূরে আছেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান—সুযোগ পেলেই আবার পড়াশোনায় ফিরে আসুন।
তার এই সাফল্যে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
৫৯ বছর বয়সে অনার্স পাসের মাধ্যমে বেলায়েত শেখ শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেননি, বরং বয়সকে জয় করে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের জন্যও তৈরি করেছেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সাংসারিক জীবনে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী দুই ছেলে এক কন্যাসন্তান রয়েছে বেলায়েত শেখের। রয়েছে ছেলে এবং মেয়ের ঘরের তিনজন নাতি-নাতনিও।
আরটিভি/এমএম


