
জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে গত ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্ভাবনী গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়।
যবিপ্রবির এ সাফল্য উদযাপনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক হয়ে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।
সমাবেশে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘যবিপ্রবিতে যে উচ্চমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কাজ হয়, আজকের এই অর্জন তারই স্বীকৃতি। গবেষণা কখনোই একক কোনো কাজ নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রয়াস। আমাদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং চমৎকার টিমওয়ার্কের কারণেই আমরা সফলভাবে এসব প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে পেরেছি।’
তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যবিপ্রবির উদ্ভাবনগুলোকে চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে বাজারে নিয়ে এসে দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা অত্যন্ত আনন্দের। গবেষণায় বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যবিপ্রবি নিজের অবস্থান তৈরি করেছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এখন মূল দায়িত্ব হলো গবেষণার এই ধারা ও মান ধরে রাখা। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বিশ্বমানের গবেষণার হাতেখড়ি নিয়ে দেশ-বিদেশে নিজেদের মেলে ধরবে এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই প্রত্যাশা।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, গবেষকদের কঠোর পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী মেধার ফলেই যবিপ্রবি এ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রকল্প সরকারের শীর্ষ মহলের নজর কেড়েছে, যা ভবিষ্যতে এসব উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কল্যাণেও ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত লজিস্টিক সাপোর্ট ও উৎসাহ দিয়েছে; এ অর্জনের মূল কৃতিত্ব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এ সাফল্যকে নতুন শুরুর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অর্জিত অবস্থান ধরে রেখে আরও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গবেষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, এ অসাধারণ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রতি উৎসর্গ করা হলো। এ সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। গবেষণার যে উচ্চতায় যবিপ্রবি পৌঁছেছে, তা ধরে রেখে আরও নতুন উচ্চতায় উঠতে হবে। গবেষকদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্পণ্য করবে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অর্জিত সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যবিপ্রবিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেটসহ ৭৩টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শত শত গবেষক ও উদ্ভাবক অংশ নেন। যবিপ্রবির পক্ষ থেকে মেলায় পাঁচটি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। এগুলোর মধ্যে ছিল ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি।
মেলায় যবিপ্রবির প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে সাড়া ফেলে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের পরিচালিত ‘ন্যানো-ইউরিয়া’ গবেষণা প্রকল্প। প্রচলিত ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে কৃষকের ব্যয় কমানো এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাসে ন্যানো-ইউরিয়ার সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ দেখান সংশ্লিষ্ট গবেষক ও দর্শনার্থীরা। এসব উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে যবিপ্রবি অর্জন করে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এর দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা।
আরটিভি/ এসকেডি




