
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেডিকেল সেন্টারের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল (আইসিই) বিভাগের। বুধবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য তারা মেডিকেল সেন্টারে যান। পরবর্তীতে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে মেডিকেল সেন্টারের স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই সময় তাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সেখানে অবস্থান করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌসুমি আক্তার জানান, সকাল ৮টা থেকে ৯টার দিকে দুই শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে যান। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে স্টাফ ও চিকিৎসকরা তাদের ওপরের তলার একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। ওই ছাত্রী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তাদের সদর হাসপাতালে বা বাসায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বারবার বলার পরও তারা সেখানে অবস্থান করায় বিষয়টি প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাইকোলজিস্টকে জানানো হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার তৃতীয় তলার কক্ষ ও বাথরুমে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাথরুমে তালা দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার মূলত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জায়গা, তাই এখানে চিকিৎসাসেবা ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হোক তা কাম্য নয়। চিকিৎসক ও স্টাফরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ চান। এদিকে কর্মস্থলের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবু তারেক বলেন, মেডিকেল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা এখানকার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় সবারই এর পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত। মেডিকেল সেন্টারে এ ধরনের ঘটনা কমাতে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা বা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের এখানে অবস্থান করা উচিত নয়। মেডিকেল সেন্টারকে আড্ডা, রিহার্সেল, ক্লাবের সভা কিংবা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, মেডিকেল সেন্টার থেকে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএস


