ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

তুমুল মারামারিতে রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ভর্তি ৬

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম
ছবি: আরটিভি

টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে অন্য গ্রুপের বল সীমানায় আসার সূত্র ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) টুর্নামেন্ট চলার সময় ঘটনার সূত্রপাত হলে খেলার মাঠে, অগ্নিবীণা হলের সামনে, কলা ভবনের সামনে এবং পেছনে ৪ দফায় সংঘর্ষ হয়। আহত ৬ শিক্ষার্থীর চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও দুইজনকেও নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নজরুল প্রিমিয়ার লীগ চলাকালে খেলার মাঠের বাউন্ডারির ভেতরে বল চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও বাউন্ডারির কাছে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও গালিগালাজ হয়। পরে খেলা শেষ হওয়ার পর বিরোধ মীমাংসায় দুই পক্ষ একসঙ্গে হলে আবারও বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতির শুরু হয়। এখানে ইংরেজি ও ভাষা সাহিত্য বিভাগের ১৬ ব্যাচের শুভকে ২০ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মারে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, এরই প্রতিশোধ নিতে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সিফাত, নাসিম ও আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে মাঠে ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হামলাকারীরা কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

পরে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী কলা ভবনের সামনে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় এবং কলা ভবনে অবস্থান নিয়ে থাকা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের গ্রুপটি পালিয়ে যায়। পরে তাদের খুঁজতে গিয়ে কলা ভবনের পেছনে ৩ জনকে পেলে তাদের রড, স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার সঙ্গেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন অভিযুক্তরা।

এসময় এই মারধরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভির প্রতিনিধি আবু তাহেরের উপরও চড়াও হয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তার ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় হামলাকারীরা।

পরে সেখান থেকে আহত ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর পক্ষের দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন এবং সিফাত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানা যায়।

ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ৬ জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি: শোক দিবসে আজ বন্ধ ঢাবি
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে প্রাণ হারান ৪০ জন।
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি: শোক দিবসে আজ বন্ধ ঢাবি
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাতে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুই ব্যক্তি। 
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
‘মারামারির ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু’, আরটিভির সাংবাদিককে হুমকি
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মারামারির ভিডিও ধারণ করায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আরটিভির সংবাদদাতা আবু তাহেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
‘মারামারির ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু’, আরটিভির সাংবাদিককে হুমকি
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
আরও পড়ুন
‘মারামারির ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু’, আরটিভির সাংবাদিককে হুমকি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর পরিষ্কার করলেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থী