ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‘গরু জবাই’ নিয়ে যা হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে

বাসস

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সেই বিতর্কের জেরে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ করে এবং আবার গরুভোজ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গরু জবাই করবে।

ঘটনার শুরু হয় গত ১২ অক্টোবর। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। তবে আয়োজনস্থলের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু কথা কাটাকাটিও হয় বলে দাবি হিন্দু শিক্ষার্থীদের। তারা এও বলছেন যে, ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীরা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না’ করেছে।

যদিও আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তির পর তারা মন্দির থেকে কয়েক হাত দূরে গিয়েই রান্না করেছেন।

যদিও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহা নিজেও মন্দির থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রান্না করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এর আগে, ১২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে মন্দিরের সামনে কয়েকজনকে খিচুড়ি রান্না করতে দেখে জয় সাহাসহ আরও কয়েকজন গিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে জানতে চান, এটা কিসের খিচুড়ি? শুরুতে ওই শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছিলো বলে দাবি করেন জয় সাহা।

তিনি বলেন, মাংস দেখে মনে হলো এটা মুরগি না; হয় খাসি বা গরু। পরে একজন বললো, গরু। যেহেতু মন্দিরের সামনে, আমাদের একটু হলেও খারাপ লাগছে। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে। আমরা তাদের সরায়ে নিতে বলি। তাদের কেউ কেউ বললো, আপনারা মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। ওরা উত্তেজিত হওয়ার মতো কথা বলছিল, একপ্রকার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলো আমাদেরকে। আমরাও আট-দশজন ছিলাম, উত্তেজিত হলাম। এর মাঝে প্রক্টর স্যার আসেন এবং পরে ওরা প্রায় দশ হাত দূরে যায়।

সেদিন দু'পক্ষের কথা কাটাকাটির প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে ক্যাম্পাসে একটি মিছিল করেন সনাতন শিক্ষার্থীরা । এরপর এ নিয়ে সামাজিক সোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থী রাকিব মাদবর এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় ধর্মের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে তর্ক-বিতর্ক করে এবং এক পর্যায়ে এটি গণমাধ্যমের নজরে আসে; শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ও বিজ্ঞপ্তি দেয়। তখন মুসলিম কমিউনিটির একটু উগ্রপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলে যে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এটা বাধা দেওয়া হইছে, যেহেতু বাংলাদেশে ৯২ শতাংশ মুসলিম, তাই এর প্রতিবাদে আবারও আমরা আয়োজন করবো। শিক্ষার্থীদের একটা গ্রুপ এটা প্রচার করে।

তবে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো মন্দিরের ইট ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। কারণ মন্দিরের সামনে কিছু অব্যবহৃত ইট পড়ে ছিল এবং ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীরা সেগুলো নিয়ে চুলা বানিয়ে রান্নার আয়োজন করতে শুরু করে। তখন হিন্দু শিক্ষার্থীরা বাধা দেয় যে ইটগুলো মন্দিরের।

এ বিষয়ে যদিও জয় সাহা বলছেন, মেইন আপত্তিছিল মন্দির এত সামনে। ওরা ন্যারেটিভ নিয়ে গেছে ইটের দিকে।

তবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, তারা যে ইটগুলো নিয়েছিলো, সেগুলো তারা আর ব্যবহার করেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে এবং পরে ক্যাফেটেরিয়া থেকে চুলা এনে রান্না করেছে।

প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি, তারপর ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু জবাই হতে পারে, আভাস পেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রশাসন।

গতকাল ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’ অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জবাইখানা ছাড়া অন্য কোথাও পশু জবাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সিল ছাড়া মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া বাজারে বিক্রির জন্য রাখা মাংসের প্রতিটি খণ্ডে ডিএসসিসির অনুমোদনের সিল থাকা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনা অমান্য করলে আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি অবৈধ মাংস বাজেয়াপ্ত ও সংশ্লিষ্ট দোকান সিলগালা করার কথাও বলা হয়েছে এতে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরু ভোজের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পোস্টে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এতে অংশগ্রহণের জন্য ৭০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির বিষয়ে অধ্যাপক আজম খান বলেন, যে ঘটনা ঘটছে তা খুব-ই তুচ্ছ ছিল। গতকাল আমরা বুঝতে পারলাম যে পশু কোরবানি হবে। তাই একটি নোটিশ জারি করি। কারণ পূজা-টূজা চলছে, এরকম করে যেন পশু জবাই না করা হয়। তাই নিষেধ করেছিলাম। এতে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা বলছে যে শুক্রবার তারা গরু জবাই করবে।

এরপর পরিস্থিতি সামলাতে আবারও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওইদিন-ই আরেকটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, গত ১২ অক্টোবর রাতে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি প্রক্টরের উদ্যোগে ঘটনাস্থলেই সমাধান করা হয়। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে প্রক্টর এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এই আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি আয়োজন যেন অন্য কোনো আয়োজনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

শুক্রবারের গরুভোজ কর্মসূচির আয়োজকরা জানিয়েছেন, গরু জবাই ওইদিনই হবে।

জানা গেছে, গরু কেনার জন্য যে চাঁদা উঠেছে, তা দিয়ে ইতোমধ্যে একটি গরু কেনাও হয়ে গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ছাত্র মজলিশ নামের একটি সংগঠন শিক্ষার্থীদেরকে একটি গরু দিবে।

আয়োজক কমিটির একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গরু নিয়ে যেহেতু এত ক্ষোভ, তাই আমরা ভাবছিলাম দূর্গাপূজার পর গরু নিয়ে আয়োজন করবো। কিন্তু গতকাল যখন প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিল যে ক্যাম্পাসে গরু জবাই দেওয়া যাবে না, তখন এটা শিক্ষার্থীদের আহত করে। প্রশাসন এই কাজটা যেহেতু করলো, তাই শিক্ষার্থীরা ফান্ড তুললো। আগামীকাল পার্টিটা হবে।

তিনি আরও জানান, তারা মন্দিরের সামনে না, হয়তোবা কলাভবনের কাছের মাঠে গরু জবাই করবেন।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, প্রশানের সঙ্গে আজ জকসুর বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষ থেকেই সম্মতি এসেছে যে আয়োজনটা করতে পারে। এটা প্রশাসনের প্রতিবাদস্বরূপ একটা আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আজম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এমনিতে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত স্থানে পশু কোরবানি করা হয়। কিন্তু এখন প্রতিবাদস্বরূপ যদি শিক্ষার্থীরা শুক্রবার গরু জবাই করেও, তাহলে মার্জিতভাবে করতে হবে যাতে ধর্মীয় দিক থেকে নতুন করে কোনো ঘটনার সৃষ্টি না হয়।

এদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহা গরু জবাই প্রসঙ্গে বলেন, ওরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করতে চাইছে, করুক, সমস্যা নাই। কিন্তু সেটা যেন মন্দিরের সামনে না হয়, মন্দিরের শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়। ওরা ১০টা গরু জবাই করুক, মন্দিরের সামনে না করুক।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস (ভলিউম ২, ডিসেম্বর ২০২৪)’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিয়মিত জার্নাল প্রকাশনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু অভ্যন্তরীণ প্রকাশনা নয়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে গুণগত গবেষণা ও সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে গবেষকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। তিস্তা অববাহিকার জীবিকা ও পরিবেশগত বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার বিশেষ সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানা অনুষদের গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা শেষে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘ওয়ার্কশপ অন অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ কর্মশালার আয়োজন করে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। এ ছাড়া কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেরোবি আইকিউএসি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম। কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণাপদ্ধতি, কৌশল এবং আধুনিক মানদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আবদুর রাকিব এবং ড. মো. সজিব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, তা বাস্তবে রূপ দিতে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সব সময় পাশে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। আরটিভি/টিআর
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
আরও পড়ুন
জবির ফিন্যান্স বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘Finরঙ ২৬’
বর্ণিল আয়োজনে জবির ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
জবি শিক্ষার্থীদের অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
জবিসহ দেশের ১৪ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড