ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়ছে রহস্যময় ভাইরাস, আতঙ্ক বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আটলান্টিক মহাসাগর। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি প্রমোদতরীতে রহস্যজনক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিরল হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের ওই প্রমোদতরীটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। যাত্রাপথেই কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। মৃতদের মধ্যে অন্তত একজনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

রোববার (৩ মে) এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে এবং আরও অন্তত পাঁচজন যাত্রী আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন এবং একজন দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডব্লিউএইচও জানায়, পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, মহামারিবিদ্যাগত বিশ্লেষণ এবং ভাইরাসের জিনগত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি প্রমোদতরীর যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতা’র প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত দুইজন মারা গেছেন এবং আরেকজন জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে নিশ্চিত করেছেন, জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ ভূখণ্ড সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে।

পরবর্তীতে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়ার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যদিও এটি বিরল, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরসহ মারাত্মক শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

আরও পড়ুন

এ ঘটনার পর প্রমোদতরী ভ্রমণ নিরাপত্তা এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য স্টেটে যাওয়ার টিকিট খুঁজতে শুধু একটি বিমানবন্দর ও নির্দিষ্ট তারিখে আটকে থাকলে কম দামের ফ্লাইট চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে ফ্লাইট ধরবেন? জানুন এই পাঁচ নিয়ম, বাঁচবে ৩০০ ডলার!
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, রয়েছে এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
নিউইয়র্কে প্রচণ্ড গরম কেবল অস্বস্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও। সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গরমের কারণে বা গরমে বিদ্যমান অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে বছরে আনুমানিক ৫০০ নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়।
নিউইয়র্কে তীব্র গরম মোকাবিলায় রোপণ করা হলো ১৮ হাজার গাছ
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/ এসকেডি
সাধারণ দাঁতব্যথা থেকে ধরা পড়ল ভয়াবহ ক্যানসার, বাঁচার লড়াইয়ে ৪ বছরের শিশু
আরও পড়ুন
পরিবারে একজন অসুস্থ হলে অন্যদের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে যা করবেন
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব, মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২
মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থীর এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার দাবি সঠিক নয়: সিভিল সার্জন
ভাইরাসের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা