
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলে এক বিশাল বিলবোর্ড টাঙিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। তবে আলোচনা জন্ম দিয়েছে সেই বিলবোর্ডের একটি ছবি—যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের পাশে স্থান পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু নিজেই এই বিলবোর্ডের ছবি প্রকাশ করেছেন। চার নেতার ছবির ওপরে হিব্রু ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘তারা চায় নেতানিয়াহু হেরে যাক।’ আর নিচে ভোটারদের উদ্দেশ্যে আকুল আবেদন জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘তাদের জিততে দেবেন না।’ কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বড় বড় পরাশক্তি ও আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ নেতাদের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরের মেয়রকে কেন এভাবে দাঁড় করানো হলো, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল।
এই ঘটনার মূলে রয়েছে জোহরান মামদানি ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে গড়ানো ব্যক্তিগত বৈরিতা। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে শুরু থেকেই ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করে আসছেন মামদানি। পাশাপাশি ইসরায়েলকে দেওয়া আমেরিকার সামরিক ও আর্থিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি।
সংঘাত চরম আকার ধারণ করে গত জুলাইয়ে, যখন গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই সময়ে মামদানি ঘোষণা দেন, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসেন, তবে তাকে গ্রেপ্তার করার আইনি পথ খুঁজবে নিউইয়র্ক প্রশাসন।
যদিও শেষ পর্যন্ত আমেরিকান কেন্দ্রীয় সরকারের আইনি এখতিয়ারের কারণে এই পদক্ষেপে আইনি বাধা তৈরি হয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে সুরক্ষার আশ্বাস দেন, তবুও এই ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইসরায়েলি প্রশাসন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মামদানিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আক্রমণ করেন এবং নেতানিয়াহু অভিযোগ তোলেন যে নিউইয়র্কের মেয়র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘ঘৃণা উসকে দিচ্ছেন’।
আগামী অক্টোবরের কঠিন নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ও চরমপন্থাকে উসকে দিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক সংঘাত, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং চলমান দুর্নীতির মামলায় জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু বোঝাতে চাইছেন—বাইরের আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক ‘শত্রুরা’ তার পতন দেখতে চায়। আর সেই বৈশ্বিক বিরুদ্ধাচরণের প্রতীক হিসেবেই আমেরিকার মাটিতে তার সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ সমালোচক জোহরান মামদানিকে খামেনি ও এরদোয়ানের সারিতে দাঁড় করিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের আবেগ ধরার রাজনৈতিক চাল চেলেছেন তিনি।
আরটিভি/এআর




