ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানে ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দির বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খানের রহিম বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক রামলীলা মন্দির বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী ভবনটি ভেঙে সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে নাগরিক সমাজের কর্মীরা মন্দিরটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেন। জনসাধারণের প্রতিবাদে সহকারী কমিশনার হামিদ সিদ্দিক ভবনটি সিলগালা করেন এবং সেখানে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মন্দিরটি ভেঙে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে আলোচনায় বসেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। বৈঠকে প্রস্তাবিত নির্মাণকাজের নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি বিষয়টি জাতীয় পরিষদে উত্থাপনের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

নাগরিক সমাজের সভাপতি সোহেল আহমেদ আজমির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কিশোর কুমার, সমাজকর্মী মুহাম্মদ নওমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ডেরা ইসমাইল খানের প্রায় ৪০০টি ভবনকে উচ্ছেদকৃত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড (ইটিপিবি) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা জানান তারা।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। এ ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসন, জাতীয় পরিষদের স্পিকার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তারা।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্কেরই আছে মানসিক সমস্যা, বলছে গবেষণা
প্রথমবারের মতো দেশটিতে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক এক তথ্য।
পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্কেরই আছে মানসিক সমস্যা, বলছে গবেষণা
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান 
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।  ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল বেলুচিস্তানের সুরাব শহরের প্রায় ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (জিএফজেড) তথ্য অনুযায়ী, একই অঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। সংস্থাটি ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছে। তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসআর
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান 
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া জবাব দিলো পাকিস্তান
সম্প্রতি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক আলোচনা সভায় বলেছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত তার চেয়েও কঠোর জবাব দেবে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া জবাব দিলো পাকিস্তান
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্কেরই আছে মানসিক সমস্যা, বলছে গবেষণা
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পাকিস্তান 
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে কড়া জবাব দিলো পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে ভারত: বিজেপি নেতা