
ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে নয় দিন বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার দায় স্বীকার করা বাবা-মাকে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে তাদের এখনই কারাগারে যেতে হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে রোশেল থমাস ও অ্যান্ড্রু মন্ডারের সাজা ঘোষণা করা হয়।
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর নিউকির হোটেল ভিক্টোরিয়ায় তাদের মেয়ে ডার্সিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ঘটনার পর গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই শিশুর প্রতি অবহেলার একটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
আদালতবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক সাইমন কার বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুটির শরীরে কোকেন প্রবেশ করাকে সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বাবা-মায়ের কর্মকাণ্ডই ডার্সির মৃ ত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্তও শুনানিতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, দুজনই কোকেন ব্যবহার করতেন। তাদের পোশাক ও আঙুলের পাশাপাশি হোটেলকক্ষের একটি কাপেও কোকেন পাওয়া যায়। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, তাদের মাদক ব্যবহার শিশুটির জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।
সাজা নির্ধারণের সময় বিচারক থমাসের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা এবং মন্ডারের অনুশোচনা ও মানসিক অবস্থার বিষয় বিবেচনা করেন। স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুজনকে এক বছর পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। থমাসকে অতিরিক্ত ছয় মাসের মা দ ক পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ল্যাক্টমেড তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, কোকেন ও এর বিপাকজাত উপাদান বুকের দুধে পাওয়া যেতে পারে। নবজাতকের শরীরে কোকেন নিষ্ক্রিয় করার প্রয়োজনীয় এনজাইম পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় তারা এ মাদকের প্রভাবে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এই সাধারণ চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য দিয়ে ডার্সির মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায় না।
আরটিভি/ এসকেডি


