ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ সম্পন্ন: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (South Lawn) নতুন ও অত্যাধুনিক হেলিপ্যাডের নির্মাণকাজ অবশেষে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পোস্টে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারের একটি ঐতিহাসিক ছবি শেয়ার করে ট্রাম্প লেখেন, ‘ডোয়াইট আইজেনহাওয়ারের ওই ছোট হেলিকপ্টারগুলোর জন্য হোয়াইট হাউসে হেলিপ্যাডের প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমেরিকার এখন এটি দরকার — এইমাত্র কাজ শেষ হলো, এবং চমৎকার!’ আইজেনহাওয়ারের ওই ছবিতে লেখা ছিল, ‘১৯৫৭ সালে হোয়াইট হাউসের সাউথ লন থেকে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন আইজেনহাওয়ার।’

লনের ঘাস রক্ষা ও নতুন হেলিপ্যাডের প্রয়োজনীয়তা হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের একটি বড় সমস্যা সমাধানের জন্য গত জুন মাস থেকে এই হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সিকরস্কি এয়ারক্রাফটের তৈরি নতুন ‘ভিএইচ-৯২এ মেরিন ওয়ান’ (VH-92A Marine One) হেলিকপ্টারগুলো আগের মডেলগুলোর চেয়ে আকারে অনেক বড় এবং এগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে উত্তপ্ত গ্যাস নিচের দিকে নির্গত হয়। এর ফলে ল্যান্ডিংয়ের সময় সাউথ লনের ঘাস পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যা এড়াতেই স্থায়ীভাবে ১০০ ফুট চওড়া এই ব্ল্যাক গ্রানাইট হেলিপ্যাডটি তৈরি করা হয়েছে, যার কেন্দ্রে খোদাই করা রয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রপতির সিলমোহর।

লকহিড মার্টিনের অর্থায়ন ও ট্রাম্পের তদারকিএই প্রকল্পের পুরো ব্যয়ভার বহন করেছে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার প্রস্তুতকারক সংস্থা সিকরস্কির মূল প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। তারা ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসকে এই কাজের জন্য ৫০ লক্ষ ডলার (৫টি মিলিয়ন) অনুদান দেয়।

গত মাসে এই প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণশৈলী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর নির্দেশে ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া গ্রানাইট সিলমোহরের কিছু অংশ ভেঙে নতুন করে কাজ করতে হয়। সাউথ লনের সমতলতা এবং হেলিপ্যাডটি যেন দিগন্তের সাথে পুরোপুরি সমান দেখায়, তা নিশ্চিত করতে নিজে তদারকি করেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আর কিছু না জানলেও, কীভাবে সুন্দর করে নির্মাণ করতে হয় তা ভালো করেই জানি।’

বহুমুখী ব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় সফরচলতি মাসের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস সফরের আগেই ট্রাম্প অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতে, এই হেলিপ্যাডটি আকাশ থেকে এবং যেকোনো স্থান থেকে দেখতে দারুণ লাগবে। তিনি বলেন, "এটি রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার জন্য আরও চমৎকার হবে। ঘাসের পরিবর্তে এখন এটিকে একটি টেবিলের মতো ব্যবহার করা যাবে। এখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা ককটেল পার্টির আয়োজন করা সম্ভব, যেখান থেকে অতিথিরা সরাসরি বলরুমে চলে যেতে পারবেন।"

নির্মাণকাজ চলাকালীন মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারটি হোয়াইট হাউসের দক্ষিণে অবস্থিত ‘ইলিপ্স’ এলাকাটিকে অস্থায়ী ল্যান্ডিং জোন হিসেবে ব্যবহার করছিল।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের এই ধরণের পরিচালনগত আধুনিকায়নের জন্য কোনো কংগ্রেসনাল বা আর্কিটেকচারাল রিভিউ প্যানেলের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, আমি আর কিছু না জানলেও, কীভাবে সুন্দর করে নির্মাণ করতে হয় তা ভালো করেই জানি।

বহুমুখী ব্যবহার ও রাষ্ট্রীয় সফরচলতি মাসের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য হোয়াইট হাউস সফরের আগেই ট্রাম্প অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতে, এই হেলিপ্যাডটি আকাশ থেকে এবং যেকোনো স্থান থেকে দেখতে দারুণ লাগবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
ফ্লোরিডায় ওজন কমানোর নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে নকল ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বিক্রির একটি আন্তর্জাতিক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ওজন কমানোর নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুই ভারতীয় নারীর বিরুদ্ধে মামলা
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে আপাতত স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের
নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেকে পাবে ৫ হাজার ডলার: ট্রাম্প
জ্বালানি তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে কখন কমতে পারে, জানালেন ট্রাম্প