ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

কংগ্রেসকে না জানিয়েই ট্রাম্পের নতুন ‘এআই ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কংগ্রেসের প্রধান সদস্যদের আগাম কিছু না জানিয়েই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে একজন নতুন এআই বিষয়ক প্রধান নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। আকস্মিক এই ঘোষণায় কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তবে তার দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রণেতাও ঘোষণার আগে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইডাহোর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক সিম্পসন সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তিনি যতটুকু জানেন, তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেই। তবে এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিটির প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগ কংগ্রেসের নিজস্ব পরিকল্পনার সঙ্গেও সংঘাত তৈরি করতে পারে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন এবং বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান টেড ক্রুজ এআইয়ের সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে নতুন আইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কয়েকজনও ট্রাম্পের ঘোষণাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। নিউ জার্সির আইনপ্রণেতা জশ গটহেইমার বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন যদি বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সেটি ইতিবাচক হবে। তবে এটি যদি শুধু প্রচারণার কৌশল হয়, তাহলে তিনি উদ্বিগ্ন।

ম্যাসাচুসেটসের আইনপ্রণেতা লরি ট্রাহান বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুধু নতুন একটি কার্যদল গঠনের কথা বলা হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির নিশ্চয়তা দেয় না।

ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা নজরদারির আওতায় আনার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ ধরনের তদারকি নতুন কোনো আলাদা সংস্থার পরিবর্তে বিদ্যমান সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই পরিচালনার কথা বলেছেন তিনি।

একই সঙ্গে এআই নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ককে তিনি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে এআই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ওপেনএআইয়ের সভাপতি গ্রেগ ব্রকম্যান ওই নৈশভোজে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। শুরুতে প্রকাশ করা অতিথিদের আংশিক তালিকায় তার নাম ছিল না। তবে পরে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নৈশভোজে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, ডেল টেকনোলজিসের প্রধান মাইকেল ডেল, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের প্রধান জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সাবেক প্রধান টিম কুকের মতো প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা—শি চিনপিংয়ের সফর ঘিরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এটি।

গ্রেগ ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী আনা ২০২৫ সালে ট্রাম্পপন্থী রাজনৈতিক তহবিল ‘মাগা ইনক’-এ মোট ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। তবে ওই অর্থ তারা ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে নয়।

ব্রকম্যান আগে বলেছেন, তার রাজনৈতিক অনুদানের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ও এআইয়ের উন্নয়নের পক্ষে নীতিকে সমর্থন করা।

এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান যুক্তরাষ্ট্রকে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কারিগরি মান তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ট্রাম্পের নতুন কার্যদল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রধান নিয়োগের উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।

সূত্র: পলিটিকো



আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন লেটিশিয়া জেমস। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী সারিতা কোমাতিরেডিকে পরাজিত করেছেন বলে ঘোষণা করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। স্থানীয় সময় বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে জেমস ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সাল থেকে জেমস নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কর্মজীবী ​​পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো, অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করেছেন। দায়িত্বকালে গত সাত বছরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৫০ বারেরও বেশি মামলা করেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প কোমাতিরেডিকে নিউ ইয়র্কের পূর্বাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। তিনি নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানসিক অসুস্থতার মোকাবিলা এবং নিউ ইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আরটিভি/টিআর
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন লেটিশিয়া জেমস
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার মার্কিন কংগ্রেসে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। 
নিজেদের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ। নির্বাচনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী। 
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এই ভিডিওটি নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ কমেছে ২৫ শতাংশ: হোয়াইট হাউস
‘আমার সমর্থনেই নেতানিয়াহুর পরাজয় ঠেকেছে’, দাবি ট্রাম্পের
আইনজীবী দাবি করলেও বার পরীক্ষায় পাস করেননি ট্রাম্পের প্রেস সচিব 
‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’, তেলের দাম কমার পূর্বাভাস ট্রাম্পের