
কংগ্রেসের প্রধান সদস্যদের আগাম কিছু না জানিয়েই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে একজন নতুন এআই বিষয়ক প্রধান নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। আকস্মিক এই ঘোষণায় কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তবে তার দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রণেতাও ঘোষণার আগে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইডাহোর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইক সিম্পসন সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তিনি যতটুকু জানেন, তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেই। তবে এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিটির প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ কংগ্রেসের নিজস্ব পরিকল্পনার সঙ্গেও সংঘাত তৈরি করতে পারে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন এবং বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান টেড ক্রুজ এআইয়ের সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে নতুন আইন তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কয়েকজনও ট্রাম্পের ঘোষণাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। নিউ জার্সির আইনপ্রণেতা জশ গটহেইমার বলেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন যদি বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, তাহলে সেটি ইতিবাচক হবে। তবে এটি যদি শুধু প্রচারণার কৌশল হয়, তাহলে তিনি উদ্বিগ্ন।
ম্যাসাচুসেটসের আইনপ্রণেতা লরি ট্রাহান বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুধু নতুন একটি কার্যদল গঠনের কথা বলা হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির নিশ্চয়তা দেয় না।
ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা নজরদারির আওতায় আনার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ ধরনের তদারকি নতুন কোনো আলাদা সংস্থার পরিবর্তে বিদ্যমান সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই পরিচালনার কথা বলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে এআই নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ককে তিনি আবারও প্রত্যাখ্যান করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে এআই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ওপেনএআইয়ের সভাপতি গ্রেগ ব্রকম্যান ওই নৈশভোজে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। শুরুতে প্রকাশ করা অতিথিদের আংশিক তালিকায় তার নাম ছিল না। তবে পরে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র তার উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নৈশভোজে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, ডেল টেকনোলজিসের প্রধান মাইকেল ডেল, এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের প্রধান জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সাবেক প্রধান টিম কুকের মতো প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলা—শি চিনপিংয়ের সফর ঘিরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এটি।
গ্রেগ ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী আনা ২০২৫ সালে ট্রাম্পপন্থী রাজনৈতিক তহবিল ‘মাগা ইনক’-এ মোট ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। তবে ওই অর্থ তারা ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন, ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে নয়।
ব্রকম্যান আগে বলেছেন, তার রাজনৈতিক অনুদানের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ও এআইয়ের উন্নয়নের পক্ষে নীতিকে সমর্থন করা।
এদিকে ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান যুক্তরাষ্ট্রকে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কারিগরি মান তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্পের নতুন কার্যদল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রধান নিয়োগের উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: পলিটিকো
আরটিভি/জেএমএ


