ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ, যা মিলল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের বিস্ময়কর বিবর্তন সব সময় আমাদের নতুন চিন্তার খোরাক জোগায়। এত দিন কম্পিউটার পর্দায় লেখা বা ছবি তৈরিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেখা গেলেও এবার জীববিজ্ঞানের গভীরে ঢুকে পড়েছে এ প্রযুক্তি। কোডের পর্যায় থেকে জীবনের মূল উপাদান ডিএনএর নকশা বানিয়ে এবার এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে প্রাকৃতিক ডিএনএ গঠনের প্যাটার্ন চেনার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। সেই মডেল ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ভাইরাল জিনোম তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তিনির্ভর এই এআই মডেল এক ডজনের বেশি ব্যাকটেরিয়া-আক্রান্তকারী নতুন ভাইরাস আবিষ্কার করেছে।

সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ‘ইভো’ (Evo) নামক একটি জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করে শুরু থেকে সম্পূর্ণ কার্যকর ভাইরাল জিনোমের নকশা তৈরি করা হয়েছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে যেমন বিপুল পরিমাণ টেক্সট দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তেমনি ইভো মডেলকে লাখ লাখ জিনোমের বিশাল ডিএনএ তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে এটি প্রকৃতিতে ডিএনএ বিন্যাসের বিবর্তনীয় নিয়মগুলো আয়ত্ত করে এবং সম্পূর্ণ নতুন ভাইরাসের রেসিপি বা জিনোম সংকেত তৈরি করে।

বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে এই এআইয়ের ডিজাইন করা ডিএনএ কৃত্রিমভাবে তৈরি করেন। গবেষণায় তৈরি হওয়া ভাইরাসের মধ্যে ১৬টি কৃত্রিম ফাজ বা ব্যাকটেরিওফাজ সফলভাবে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থাকেও হারিয়ে দিয়েছে এরা। এসব নতুন ভাইরাসের সিকোয়েন্স বা গঠন প্রকৃতিতে বিদ্যমান অন্য যেকোনো ভাইরাসের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র।

গবেষক দল তাদের ট্রেনিং মডেলে মানুষের দেহে রোগ ছড়ায় এমন কোনো প্যাথোজেনের তথ্য যুক্ত করেননি; ফলে তৈরি হওয়া নতুন ভাইরাসগুলো মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে না। তবে বিজ্ঞানের এ সাফল্য এমন এক সময়ে এল, যখন এআই ব্যবহার করে নতুন বিষাক্ত জৈব অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অবশ্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ‘সুপারবাগ’ ধ্বংস করতে বিজ্ঞানীরা এখন প্রকৃতিতে ঘুরে ভাইরাস খোঁজার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার জন্য কাস্টম-মেড থেরাপি বা ভাইরাস ডিজাইন করতে পারবেন।

যদিও জীবসুরক্ষা গবেষক, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিনথেটিক বায়োলজিস্টরা জীববিজ্ঞানের জগতে এআইয়ের এ দ্রুত অগ্রগতি ও সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনস হপকিনস সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির বায়োসিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ থমাস ইংলেসবি ও মরিটজ হাংক সতর্ক করে বলেন, স্ট্যানফোর্ডের এ গবেষণা প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তি অপব্যবহারের শিকার হলে বিপজ্জনক জৈব অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হতে পারে। তাঁরা এ ধরনের গবেষণার ওপর কঠোর আইন প্রণয়ন এবং মানুষ, প্রাণী বা কৃষি ফসলের ক্ষতি করতে পারে এমন প্যাথোজেনে এ ধরনের জেনারেটিভ প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সিনথেটিক জিনোম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টম এলিস বলেন, মানুষের ক্ষতি করতে পারে এমন জৈব অস্ত্র তৈরি করা এত সহজ হবে না। ইভো দিয়ে তৈরি করা ভাইরাসগুলো জিনোম হিসেবে অত্যন্ত ছোট এবং তৈরি করা সবচেয়ে সহজ। জিনগত তথ্যের অ্যাকসেসে সামান্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলেই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

জৈবিক বা বায়োলজিক্যাল এআই সফটওয়্যারের ক্ষমতা সীমিত করা উচিত কিনা, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক করছেন।

আরও পড়ুন

একদল গবেষক মনে করেন, এ প্রযুক্তি চিকিৎসা গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে সঠিক সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে ক্ষতিকারক গোষ্ঠী এ মডেলের অপব্যবহার করে নতুন জৈব হুমকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে এবং এআই ফ্রন্টিয়ার মডেলের সঠিক ব্যবহারের মানদণ্ড তৈরিতে ‘ফ্রন্টিয়ার মডেল ফোরাম’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

সূত্র: ফোর্বস

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
মহাকাশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন একটি গ্যালারি প্রকাশ করেছে নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। এতে বিভিন্ন টেলিস্কোপের তথ্য মিলিয়ে তৈরি ১৬টি গ্যালাক্সির ছবি রয়েছে।
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য। গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়। আরও পড়ুন পৃথিবীতে মানুষের আগেও কি ছিল উন্নত সভ্যতা? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি। গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস আরটিভি/এমএইচজে
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের স্মৃতি এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে আকাশে আজ রাতে শুরু হচ্ছে আরেক বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক ঘটনা—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে গিয়ে এটি রূপ নেবে এক ম্লান কমলা ও রক্তিম আভায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের আকাশজুড়ে দৃশ্যমান হবে। সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলো থেকে সরাসরি খালি চোখে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। আকাশে চাঁদের উদয় ও গ্রহণের মূল সময়সূচির তারতম্যের কারণেই বাংলাদেশিরা এই বিরল দৃশ্যের দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, আজ রাতে চাঁদ যখন পৃথিবীর গভীর ছায়াবলয়ে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় থাকবে দিনের আলো কিংবা চাঁদের অবস্থান থাকবে দিগন্তের নিচে। সর্বোচ্চ গ্রহণের সময়ে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় চাঁদের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে গিয়ে যে 'রক্তিম আভা' বা বিশেষ রূপ তৈরি হবে, তা দেখার সুযোগ পাবেন মূলত পশ্চিম গোলার্ধের মানুষ। আরও পড়ুন আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৯টা ২৩ মিনিটে গ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আসল দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করবে রাত ১০টা ৩৩ মিনিট থেকে। গভীর রাতে, অর্থাৎ ২৮ আগস্ট মধ্যরাত ১২টা ১৩ মিনিটে গ্রহণটি তার চূড়ান্ত রূপ নেবে। সে সময় চাঁদের একটি সরু অংশ ছাড়া পুরোটাই ঢেকে যাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায়। একই সময়ে আকাশে উদয় ঘটবে চলতি আগস্ট মাসের বিশেষ পূর্ণিমার, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘স্টার্জন মুন’ নামে পরিচিত। উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের অধিবাসীরা কোনো ধরনের চোখের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই খালি চোখে দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করতে পারবেন আকাশের এই বিরল রূপ। আর বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ মানুষকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নির্ভর করতে হবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারের ওপর। আরটিভি/এআর 
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
আরও পড়ুন
চোখের সামনে যা দেখছি, সেটাই কি সত্য
চুল পাকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞানীদের নতুন ইঙ্গিত
নারী-পুরুষের ফ্লার্টের ধরন নিয়ে গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
চট্টগ্রামে বিসিএসআইআর গবেষণা কেন্দ্রে হঠাৎ এসি বিস্ফোরণ