ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ীর ভোটে এগিয়ে রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে ব্যালন ডি’অরের বিশেষ এক ভোটাভুটিতে। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

তার ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ঐতিহাসিক মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। খবর আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই ভোটাভুটিতে ফুটবল ইতিহাসের ১০ কিংবদন্তির ব্যালন ডি’অরজয়ী বিভিন্ন মৌসুমের মধ্যে সেরাটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সমর্থকেরা।

২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রোনালদো। সেটিই ছিল তার ক্যারিয়ারে জেতা পাঁচটি ব্যালন ডি’অরের প্রথমটি। ভোটের ফলাফলে তার সেই মৌসুমই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, ২০১২ সালে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। ওই ক্যালেন্ডার বছরে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। সেই অসাধারণ কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে ভোটাভুটিতে তার সেই ঐতিহাসিক মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ সমর্থন।

মেসির আটটি ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়াও তার পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকায় তার ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম রয়েছে পরের অবস্থানে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর ওই বছর অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি। সে সময় প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে ফরাসি লিগ ও ফরাসি সুপার কাপও জিতেছিলেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ২১ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ২০টি অ্যাসিস্ট। এই মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯ শতাংশ।

রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ৭ শতাংশ ভোট। তার ২০১৬ সালের পুরস্কারজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ২ শতাংশ। মেসি ও রোনালদোর অন্য মৌসুমগুলোর সমর্থন ১ শতাংশের আশপাশে বা তার নিচে রয়েছে।

এই ভোটাভুটিতে মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের আরও আট কিংবদন্তি—রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো দি স্তেফানো।

তাদের মধ্যে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। ফন বাস্তেন পুরস্কারটি জেতেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে। প্লাতিনি ও ক্রুইফও তিনবার করে এই সম্মান অর্জন করেছেন।

এই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো খরচ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। ভোটদাতারা ব্যালন ডি’অরের চলতি বছরের অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক ব্যালন ডি’অর ট্রফির ছবি কেনা ও ডাউনলোড করার সুবিধাও রয়েছে।

সমর্থকেরা একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন। এমনকি একই খেলোয়াড় বা মৌসুমের পক্ষেও বারবার ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোটের ফলাফলে প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থনের শতকরা হারও দেখা যাচ্ছে।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে ২৭ অক্টোবর প্যারিস সময় মধ্যরাত পর্যন্ত। ফলে ভোটের শেষ দিকে রোনালদোর এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে কি না, নাকি মেসির কোনো মৌসুম ঘুরে দাঁড়ায় সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক
সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে আর্দা গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড পেককে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এই তুর্কি তারকার বিরুদ্ধে। তবে ভিএআর হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেভিয়ার খেলোয়াড়রা।
রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক
এমবাপ্পের জোড়া গোল, সেভিয়াকে হারিয়ে এল ক্লাসিকোর আগে চাঙা রিয়াল
কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল ও আরদা গুলার এবং ইয়ান দিয়োমান্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এমবাপ্পের জোড়া গোল, সেভিয়াকে হারিয়ে এল ক্লাসিকোর আগে চাঙা রিয়াল
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এখন ঢাকায়
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এখন ঢাকায়
চোয়ালে অস্ত্রোপচারের পর যে বার্তা দিলেন মার্টিনেজ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের সেন্টারব্যাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর চোয়ালে ফাটল ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের।  সম্প্রতি নিজের ফেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হাসপাতালের বেডে শোয়া একটি ছবির পোস্ট করে মাঠে ফেরার বার্তা দিয়েছেন মার্টিনেজ। তিনি লিখেছেন, যারা বার্তা পাঠিয়েছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমরা ক্লিনশিট ধরে রেখে ম্যাচ জিতেছি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরব। এদিকে অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণ পর বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, আমার প্রিয় দিবু, তোমার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পৃথিবীর সব শক্তি তোমার সঙ্গে থাকুক। দূর থেকে তোমাকে অনেক বড় একটি আলিঙ্গন জানাচ্ছি। আমার কোনো সন্দেহ নেই তুমি আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। ভালো-মন্দ সব সময়েই তোমার পাশে আছি। তোমাকে ভালোবাসি, বন্ধু। প্রসঙ্গত, এভারটনের একটি ফ্রি কিক বিপদমুক্ত করার জন্য পাঞ্চ করতে গেলে দলটির সেন্টারব্যাক জ্যারাড ব্র্যান্থওয়েটের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন দিবু মার্টিনেজ। ওই সময় প্রায় ১০ মিনিট মাঠে পড়ে থাকার পর স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়।  এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরাসরি একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সিটি স্ক্যানে ঘাড়, পিঠ ও মাথার খুলিতে উদ্বেগজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষায় তার চোয়ালে ফাটল ধরা পড়ে, যার জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। আর্জেন্টাইন তারকাকে নিয়ে ভয় অনেকটাই কেটে গেলেও, তার মাঠে ফিরতে প্রায় দেড় মাস পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস।  আরটিভি/এসআর
চোয়ালে অস্ত্রোপচারের পর যে বার্তা দিলেন মার্টিনেজ
জোড়া গোল ও অ্যাসিস্টে মেসির ইতিহাস
মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) আটালান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা তিন মৌসুমে ন্যূনতম ১৫ গোলে অ্যাসিস্ট করলেন লিওনেল মেসি।      রোববার (১৮ অক্টোবর) আটালান্টার মাঠ মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সফরকারী মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টাইন মহাতারকা জোড়া গোল করে ব্যবধান তিনগুণ করেন।  শেষ দিকে পেনাল্টিতে পাওয়া গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিক আটালান্টা। ম্যাচজুড়ে তাদের ওপর আধিপত্য ছিল ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেসের দলের। পেশাদার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ৯৩৬ গোল করলেন মেসি। আর চলমান এমএলএসে ২৫তম গোল নিয়ে তিনি সবার শীর্ষে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আছেন। পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছেন ১৫টি।  এর মধ্য দিয়ে এমএলএসের ইতিহাসে টানা তিন মৌসুমেই ন্যূনতম ১৫টি অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়লেন মেসি। চলতি মৌসুমে অবশ্য তার সমান অ্যাসিস্ট আছে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে খেলা দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিনের। গত মৌসুমে এমএলএসে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। তিনি এবং জোসেফ মার্টিনেজই কেবল লিগের ইতিহাসে দুই মৌসুমে কমপক্ষে ২৫টি গোল করেছেন। সবমিলিয়ে আলবিসেলেস্তে মহাতারকার অবদান রয়েছে ৪০ গোলে।  ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি-র হয়ে কার্লোস ভেলার গড়া রেকর্ড (৪৯ গোলে অবদান) থেকে ৯টি কম মেসির। তবে মায়ামি অধিনায়কের হাতে এখনও চার ম্যাচ বাকি। আটালান্টার বিপক্ষে প্রথমার্ধে একটি গোলে সহায়তার পর, দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন মেসি। ৫৬ ও ৬০তম মিনিটে তিনি চলতি লিগ মৌসুমের ২৪তম ও ২৫তম গোলটি করেন। জেরেমি বার্তেরামে উভয় গোলেই সহায়তা করেন এবং মেসির দ্বিতীয় গোলটির সময় অবদান ছিল লুইস সুয়ারেজেরও। আরটিভি/এসআর
জোড়া গোল ও অ্যাসিস্টে মেসির ইতিহাস
আরও পড়ুন
ব্যালন ডি’অর নিয়ে কুকুরেয়ার মজার মন্তব্য
ইয়ামালের খোঁচার জবাব দিলেন কেইন
কেইন-এমবাপ্পে নয়, ব্যালন ডি’অর মেসিরই পাওয়া উচিত: বেকহ্যাম
ব্যালন ডি’অর জিতবেন ইয়ামাল, দাবি হোর্হে মেন্দেজের