
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুরের মাছ এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের কথা থাকলেও তা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন মাছের ভাগ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করেছেন বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের ওই পুকুরে প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনা বড় হওয়ার পর পুকুরের মাছ সরকারি সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাছ আহরণের পর তা এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণের কথা।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছগুলো এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ না করে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে পোনা অবমুক্ত করে বড় করা মাছ যদি এতিম ও দুস্থদের জন্য বরাদ্দ থাকে, তাহলে তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হলো? মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন, তালিকা বা হিসাব রাখা হয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, পুকুরের পানি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া হয়। পুকুরের পাশে একটি মসজিদ থাকায় মুসল্লিদের অজু করতেও সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে পুকুরে জাল টেনে মাছ আহরণ এবং পানিতে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা বিষক্রিয়া নিধনের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন, মাছ আহরণের জন্য যারা জাল নিয়ে এসেছিলেন, তাদের মজুরি বাবদ ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ওই টাকা পরিশোধের জন্য আহরণ করা মাছ ভাগ করে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাছ বণ্টন করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, জাল টানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য মাছ বিক্রি বা অন্য কোনো ব্যবস্থা না করে কেন সরকারি পুকুরের মাছ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলো। একই সঙ্গে মাছের প্রকৃত পরিমাণ ও বণ্টনের হিসাব প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হলেও বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছি। সরকারি পুকুরের মাছ এভাবে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। এটি ঠিক হয়নি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সরকারি পুকুরের মাছ এতিম ও গরিব-দুস্থদের বঞ্চিত রেখে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পুকুরে এডিপির অর্থে অবমুক্ত করা মাছ আহরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, মাছের মোট পরিমাণ কত ছিল এবং কার মধ্যে কত পরিমাণ মাছ বিতরণ করা হয়েছে—তা তদন্ত করে প্রকাশ করা হোক।
তারা আরও বলেন, মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত তা এতিম, দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করা যেত। কিন্তু তা না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মাছ আহরণ ও বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরটিভি/এসএস


