
বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভপাত করানো ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী জিহাদুল করিমের বিরুদ্ধে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল এবং প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগপত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে জিহাদুল করিমের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে মৌখিক ও লিখিতভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক সুবিধা নিতেন জিহাদুল করিম। এ ছাড়া ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ওই ছাত্রী। পাশাপাশি তাকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করার অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে সমাধানের লক্ষ্যে উভয়কে বিবাহের মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু অভিযুক্ত ছাত্র বিবাহের প্রক্রিয়াটি এড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কোড অব কন্ডাক্ট’ (শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি) অনুসারে তাদের নৈতিক স্খলনের দায়ে শাস্তির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জিহাদুল করিম বলেন, আমাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। এখানে প্রলোভন আসবে কীভাবে? বরং উভয়ের সম্মতিতে সবকিছু হয়েছে।
গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বাচ্চা কনসিভ হওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়নি। সবকিছুই সম্মতিতেই হয়েছে।
নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, গত ৮ জুন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা করার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করার পরও তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ।
মামলা বা জিডি না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ইবি থানায় যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, জিহাদুল করিম ভুয়া কাবিননামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে ‘পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য’ দিয়েছেন। এসব ডকুমেন্ট তৈরিতে জিহাদুলের বন্ধু আমিরুল ইসলাম (ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০) সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিহাদুল করিম তার খালাতো ভাই রাকিব ইসলাম ও বন্ধু মিরাজের পরামর্শে তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করিয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।
এদিকে, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি না, শুধু সবাই জানত যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে। এর বাইরে আর কিছুই জানি না। আমি পোর্টালে আমার নাম দেখে বন্ধুকে কল দিয়েছিলাম। সে নিজেও বলছে, আমার নাম কীভাবে আসল?
বিশ্ববিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুজনের সম্মতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বিয়ে করবেন বলে তারা লিখিত চুক্তিও করেন। বিয়ে ছাড়াই তারা লিভ টুগেদার করেন। ফলে গর্ভবতী হয়ে গেলে চূড়ান্ত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওই ছাত্রী। কিন্তু ছেলে সময় নিলে মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত চলাকালে দুজনের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে কমিটি। ওই সময় মেয়ের পরিবার ও ছেলের পরিবার উপস্থিত হলে ছেলের পরিবার ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর এবং মেয়ের পরিবার ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। দেনমোহর নিয়ে বনিবনা না হলে পরে ছেলের পরিবার সরে যায় এবং ঘটনাটি পুরোপুরি অস্বীকার করে। মেয়েটির মা নেই, বাবা প্রবাসী। শক্ত অভিভাবক না থাকায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় যায়নি।
আরটিভি/টিআর




