
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই আয়োজনে পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে ‘রাউন্ডটেবিল ডিসকাশন অন ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চবি ও চিটাগাং চেম্বার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন। সভাপতিত্ব করেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এবং পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘২০২৯ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’ শিল্প ও একাডেমিয়ার সহযোগিতা বাড়লে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব চাহিদার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করতে শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।’ শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, ইন্টার্নশিপ, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণার ফলাফল বাণিজ্যিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটলে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি সহজ হবে।
চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিশেষায়িত দক্ষতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন জানান, শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর পাঠ্যক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে সব বিভাগের কমিটি অব কোর্সেসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, গবেষণা ও ইন্টার্নশিপে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সমস্যা ও গবেষণার চাহিদা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তুলে ধরলে গবেষণার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান দেওয়া সম্ভব। নতুন শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়েও বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখতে পারে।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী আলী আহমেদ, একেখান গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন কাসেম খান, চেম্বারের সাবেক পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী ও এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং চবির সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেম্বারের পরিচালক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন চবির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে UTSA Bangladesh, Sharon Chou Apparels Ltd, Chowdhury Shipping Agencies Pvt. Ltd, Fashion of Wales Ltd ও হাক্কানি গ্রুপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া।
আরটিভি/জেএমএ


