
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রভাবশালী মুসলিম সদস্য ইলহান ওমর হামলার শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার(২৮ জানুয়ারি) রাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত অভিবাসন নীতি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কঠোর সমালোচনা করার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলহান ওমর যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি হঠাৎ তার দিকে ধাবিত হয় এবং একটি স্বচ্ছ তরল স্প্রে করে। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জনসভায় ইলহান ওমর ও সোমালি অভিবাসীদের নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
হামলার শিকার হওয়ার পরও অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়ে মঞ্চ ছাড়েননি সোমালি বংশোদ্ভূত এই কংগ্রেস সদস্য। ঘটনার আকস্মিকতায় সামান্য বিচলিত হলেও তিনি শারীরিকভাবে অক্ষত আছেন এবং দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা কথা বলা চালিয়ে যাব, আমাকে শুধু দশ মিনিট সময় দিন। উসকানিদাতাদের আমি আমাদের গণতান্ত্রিক মঞ্চ দখল করার কোনো সুযোগ দেব না।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তিনি নিজেকে একজন ‘সারভাইভার’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, এ ধরনের কাপুরুষোচিত আক্রমণ তাকে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
মিনিয়াপোলিস পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম অ্যান্থনি জেমস ক্যাজমিয়ার্জ্যাক (৫৫) এবং তাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এই ধরনের হামলার ঘটনা এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমেরিকার মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা সিএআইআর এই ঘটনাকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী উসকানির ভয়াবহ ফল হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
উল্লেখ্য যে, ইলহান ওমর দীর্ঘ দিন ধরেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক আক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু। ট্রাম্প প্রায়ই তাকে আক্রমণ করতে উগ্র ভাষা ব্যবহার করেন এবং গত বছর সোমালি সম্প্রদায়কে ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
আরটিভি/এআর




