ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশের একমাত্র রেলপথ, চলন্ত ট্রেনে ওঠা-নামা যেখানে ‘দুধভাত’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

‘দাদি, হেঁটে যাচ্ছেন কেন? ট্রেনে উঠে আসেন।’ ট্রেনের যাত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধার উত্তর, ‘না, আজ ট্রেনে যাব না। আমার একটু তাড়া আছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।’

চিলমারী অঞ্চলের এই প্রচলিত রসিকতাটি আজ আর কেবল কোনো গল্পে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কুড়িগ্রামের চিলমারী রেলপথের দৈনন্দিন বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ধীরগতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে এই ট্রেন নিয়ে নানা হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে জরাজীর্ণ এক রেলপথের করুণ চিত্র। জরাজীর্ণ লাইনের কারণে ট্রেনের গতি এতই কমে গেছে যে, চলন্ত ট্রেন থেকেই প্রতিনিয়ত মানুষ নামছেন ও উঠছেন।

পার্বতীপুর-রংপুর-কাউনিয়া হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী রমনা বাজার পর্যন্ত চলাচলকারী এই ট্রেনটিতে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উলিপুর থেকে রমনা বাজার পর্যন্ত অংশের রেললাইনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ স্লিপার এবং নড়বড়ে অবকাঠামোর কারণে ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়েই ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে ঘণ্টা মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অনেকেই অনায়াসে চলন্ত ট্রেনে উঠছেন ও নামছেন। তবে এ ঘটনা কেবল ভ্রমণের ধৈর্যের পরীক্ষাই বাড়ায়নি, তৈরি করেছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতি কম থাকায় অনেকেই চলন্ত ট্রেনে ওঠানামাকে বিপজ্জনক মনে করছেন না। অনেকে আবার সামাজিক মাধ্যমে রিলস বা টিকটক ভিডিও বানিয়ে বিনোদন নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাফিয়ে ওঠা-নামার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

রেললাইনের পাশের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ট্রেনের গতি কম দেখে অনেকে বিষয়টিকে সহজভাবে নিচ্ছেন। কিন্তু চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা কখনোই নিরাপদ নয়। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই ঝুঁকিপূর্ণ চর্চা বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জোব্বার আলী জানান, বড়দের দেখাদেখি ছোটরাও এখন চলন্ত ট্রেনে ওঠানামায় উৎসাহিত হচ্ছে। এর ফলে যা একসময় রসিকতা বা গল্পের অংশ ছিল, তা এখন বাস্তব ট্র্যাজেডিতে রূপ নেওয়ার আশংকা তৈরি করছে।

রেলপথের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে রমনা বাজার স্টেশন কার্যালয়ের বুকিং সহকারী মো. নাজমুল হাসান জানান, উলিপুর থেকে রমনা বাজার পর্যন্ত রেললাইনে প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত নানা জটিলতা রয়েছে। যাত্রী ও ট্রেনের নিরাপত্তার স্বার্থেই ট্রেনের গতি কমিয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই রেলপথ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। উলিপুর অংশ পর্যন্ত কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই চিলমারী অংশের কাজও সম্পন্ন হবে। লাইন আধুনিকায়ন ও সংস্কারকাজ শেষ হলে ট্রেনের গতি ও সেবার মান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার উত্তর দেয়ানা এলাকার হোসেন শাহ রোডের ২১২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় হঠাৎ ডিবির অভিযান, অতঃপর...
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতেন জাকির হোসেন (৬২)। এ ছাড়া কোনো উপলক্ষে কিংবা বাবাকে মনে পড়লেই তিনি বাবার কবরের সামনে যেতেন। তবে এটি আর এখন সম্ভব নয়। 
সাগরে বিলীন বাবার কবর, কান্না থামছে না বৃদ্ধ জাকির হোসেনের
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুলতায় ধারদেনা করে তাকে পাঠিয়েছিলেন সৌদি আরবে।
সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
সাতক্ষীরা সদরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোশাররফ হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শিশুকে নিয়ে ছাদে মোশাররফ, ইউপি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার’
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
আরও পড়ুন
মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা হাসপাতালে
সোনাহাট স্থলবন্দরে ৭ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি  
ক্লাসরুম যেন মরণফাঁদ
ঢাকা-কুমিল্লা ৮১ কিমি এলিভেটেড রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ