ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
এলাকা ছাড়লেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন
এলাকা ছাড়লেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন
ভাইয়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে কথা বলেছিলেন তিনি। 
পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে চাপা দিয়ে হত্যা, অতঃপর...
পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে চাপা দিয়ে হত্যা, অতঃপর...
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফের দুর্ঘটনা, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তা
দাদার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তা
মঠবাড়িয়ায় ডাকাত সর্দার ইয়াসিন গ্রেপ্তার
মঠবাড়িয়ায় ডাকাত সর্দার ইয়াসিন গ্রেপ্তার
নামে ডিজিটাল হলেও বাস্তবে ময়লার ভাগাড় মঠবাড়িয়া টিএন্ডটি কার্যালয়
নামে ডিজিটাল হলেও বাস্তবে ময়লার ভাগাড় মঠবাড়িয়া টিএন্ডটি কার্যালয়
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধার দাফন গভীর রাতে, কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধার দাফন গভীর রাতে, কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন
মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসে নেই ডুবুরি দল-স্পিডবোট, অ্যাম্বুলেন্সও নেই
দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত উপজেলা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া। উপজেলার অন্যতম নদী বলেশ্বর। নদী একদিকে যেমন উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তা হয়ে উঠেছে বড় বাধা। ফলে প্রতিনিয়তই নদীতে দুর্ঘটনা ও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে এসব দুর্ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে নেই নিজস্ব ডুবুরি দল, স্পিডবোট কিংবা অ্যাম্বুলেন্স। ফলে নদী কিংবা খালে যেকোনো নৌযান দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। জেলার সাতটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ‘ক’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ‘ক’ শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে থাকা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। এ ছাড়া প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় প্রায়ই বিলম্বিত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। এতে একদিকে স্বজনদের আহাজারি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি ও উদ্ধারকর্মীদের ভোগান্তি। নদীবেষ্টিত এ উপজেলায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান নিশ্চিত করতে আধুনিক সরঞ্জামসংবলিত ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বহুতল ভবনে আগুন নেভানো ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের পাশাপাশি বলেশ্বর নদীর তীরে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি তাদের। তাদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলায় অনেক নদী ও খাল রয়েছে। এসব নদ-নদীতে দুর্ঘটনা ঘটলে বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আনতে হয়। ফলে সময়মতো উদ্ধারকাজ শুরু করা যায় না। শুধু তা-ই নয়, নৌদুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক স্পিডবোটও নেই। ফলে নিখোঁজের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী তানভীর হাসান বলেন, এখানে নদ-নদী ও খাল-বিলের সংখ্যা বেশি। প্রায়ই নদী ও খালে ডুবে মানুষ নিখোঁজ হন। বরিশাল থেকে ডুবুরি দল আসতে আসতে অনেকেই মারা যান। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলো আধুনিকায়ন করা হয়নি। এখানে ডুবুরি দল, স্পিডবোট ও অ্যাম্বুলেন্স খুবই জরুরি। উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতি শনিবার গণসংযোগ এবং রবিবার মহড়া পরিচালনা করি, যাতে মানুষ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন থাকেন। আমাদের স্টেশনে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। এখানে ২৩ জন জনবল রয়েছেন, যাঁরা সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকেন। এ ছাড়া স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলেশ্বর নদীর পাড়ে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করা গেলে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কেন্দ্র, অথচ চিকিৎসকই নেই
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ১০ শয্যার এই কেন্দ্রটির বয়স এখন ৫৮ বছর। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে এর কার্যক্রম। শিশু বিশেষজ্ঞ, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার—কেউই নেই। নেই আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকে। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা দায়িত্ব পালন করছেন। তাকেই ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত সরকারি এই কেন্দ্রের এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় গর্ভবতী নারীরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে নিরাপদ মাতৃত্বসেবা ব্যাহত হচ্ছে। মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া পৌরসভাসংলগ্ন টিকিকাটা ইউনিয়নে ৬৮ শতক জমির ওপর ১০ শয্যাবিশিষ্ট কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়েনি শয্যাসংখ্যা। এদিকে বেড়েছে জনসংখ্যা, বেড়েছে চিকিৎসাসেবার চাহিদা। কেন্দ্রটিতে বিনা মূল্যে সন্তান প্রসবসহ নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে এসব সেবা ব্যাহত হচ্ছে। নেই রোগনির্ণয়ের পরীক্ষাগার ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে তাদের চিকিৎসাব্যয়। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে জনবলসংকট প্রকট। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এ কেন্দ্রে দুজন মেডিকেল অফিসার, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, চারজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন অফিস সহকারী ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অন্যদিকে, মিরুখালী ইউনিয়নের মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রেও ১০টি পদের বিপরীতে কোনো কর্মী নেই। টিকিকাটা ইউনিয়ন মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন নার্স ও একজন পিয়ন-কাম-চৌকিদার। ফলে কেন্দ্রটিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আরেকজন নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। জনবলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সুমাইয়া আক্তার নামের এক গর্ভবতী নারী বলেন, এখানে ডাক্তার দেখাতে এসে দেখি, চিকিৎসা নেওয়ার মতো ডাক্তার ও পরিবেশ নেই। এভাবে পরপর দুই দিন এসে ফিরে গেছি। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছি। মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা মৌসুমী রানী হালদার বলেন, একাই তাকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। মাসে ১৫ থেকে ২০টি স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) হয়। জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেও যথাসম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সোহাগ হোসেন জনবলসংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, জনবল না থাকায় ছোটখাটো সেবা দিতেও সমস্যা হচ্ছে। অনুমোদিত পদের তুলনায় প্রতিটি কেন্দ্রেই জনবল কম রয়েছে। জনবল ঠিক থাকলে স্বাভাবিক প্রসবসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া সহজ হতো এবং মায়েরা এসব কেন্দ্রমুখী হতেন। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আরটিভি/টিআর
হিমাগারের অভাবে শত বছরের কান্না থামছে না মঠবাড়িয়ার কৃষকদের
উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় বছরজুড়ে উৎপাদিত হয় নানা ধরনের কৃষিপণ্য। আলু, টমেটো, করলা, ভুট্টা, শিম ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা। বাজারে একসঙ্গে বেশি ফসল উঠলে দাম কমে যায়। তখন পচে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন কৃষকেরা। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকাজ হলেও এখানে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো হিমাগার। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি, একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে ফসল সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করা যেত। এতে একদিকে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত, অন্যদিকে ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। উপজেলার কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মৌসুমে একসঙ্গে অনেক টমেটো বাজারে আসে। তখন প্রতি কেজি টমেটোর দাম পাঁচ টাকাও পাওয়া যায় না। অথচ ফসল উৎপাদনে খরচ হয় অনেক বেশি। হিমাগার থাকলে টমেটো সংরক্ষণ করে ১৫ থেকে ২০ দিন পর ভালো দামে বিক্রি করা যেত। এতে লোকসান এড়ানো সম্ভব হতো। হিমাগার না থাকায় আলুচাষিদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়ভাবে বীজ আলু সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর অন্য জেলা থেকে চড়া দামে বীজ কিনতে হয় তাদের। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। পাশাপাশি বীজের জন্য বাইরের বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয়। উপজেলার কৃষকেরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে হিমাগার স্থাপন করা হলে নিজেদের উৎপাদিত আলুর একটি অংশ বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতো। আবার বাজারে দাম কম থাকলে আলু সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিক্রি করা যেত। এতে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া এবং লোকসানের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতো। শুধু আলু নয়, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত্রেও সংরক্ষণের অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব পণ্য দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় না। ফলে মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা তখন কম দামেই পাইকারদের কাছে ফসল বিক্রি করেন। এতে উৎপাদনের পুরো খরচ তুলে আনাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কৃষকেরা মনে করেন, হিমাগার থাকলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও দাম বিবেচনা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমার পাশাপাশি কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগ পেতেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমত এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিও আরও গতিশীল হতো। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মঠবাড়িয়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমে কম দামে ফসল বিক্রির চাপ কমবে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়ার সুযোগও পাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কামরুন নেছা সুমি বলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলায় সরকারিভাবে কোনো হিমাগার নেই। অথচ এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে রবিশস্যসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা অনেক সময় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। শুধু উপজেলা পর্যায়ে নয়, প্রতিটি ইউনিয়নে ছোট আকারের মিনি হিমাগার স্থাপন করা হলেও তা কৃষকদের জন্য উপকারী হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। আরটিভি/টিআর
আরও